ইরান–ইজরায়েল সংঘাত ঘিরে বাড়ছে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা
নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ইরান–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে এই মুহূর্তে বড় আকারে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না কেন্দ্র সরকার। পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপের প্রস্তুতিও রয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
বর্তমান অস্থিরতার জেরে ইরান ও ইজরায়েলের আকাশসীমায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। বিভিন্ন স্থানে সামরিক তৎপরতা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার খবর মিলছে। এমন পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলগুলিতে বসবাসকারী বা কর্মরত ভারতীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনো, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা এবং ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত, আপাতত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। তাই ব্যাপক উদ্ধার অভিযানের ঘোষণা করা হয়নি। তবে অতীতে যেমন বিভিন্ন দেশে সংকটের সময় ভারত দ্রুত ‘অপারেশন’ চালিয়ে নাগরিকদের ফিরিয়ে এনেছে, তেমন প্রয়োজনে একই রকম পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি ইতিমধ্যেই প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
আরও পড়ুন-আজমেরে ১৬,৬৮০ কোটি টাকার প্রকল্প, দেশজুড়ে HPV টিকাকরণ শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী
ইরান ও ইজরায়েলে বহু ভারতীয় ছাত্র, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাঁদের পরিবার-পরিজনদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে বিমান চলাচলে বিঘ্ন এবং আকাশপথে নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে অনেকে আটকে পড়ার আশঙ্কা করছেন। কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা রুট পরিবর্তন বা পরিষেবা স্থগিত করেছে বলেও জানা যাচ্ছে।
ভারত সরকার জানিয়েছে, যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে হেল্পলাইন নম্বর চালু থাকবে। প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর বা বিশেষ বিমানের ব্যবস্থাও করা হতে পারে। তবে এখনই আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তেলের দাম, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। ফলে ভারত সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইরান–মার্কিন–ইজরায়েল সংঘাত ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও এই মুহূর্তে ভারত বড়সড় সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। তবে নাগরিকদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার—পরিস্থিতি খারাপ হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।





