ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র, সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের বিকল্প খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল
নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক ঃ ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই তীব্র আকার নিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলন দমন করতে কড়া অবস্থান নিয়েছে ইরানি প্রশাসন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এখনও পর্যন্ত এই বিক্ষোভে কমপক্ষে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল সম্ভাব্য নীতিগত ও কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের বিকল্পগুলি বিবেচনা করছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ইরানের রাজধানী তেহরানে গত বছরের শেষ সপ্তাহে বাজার বন্ধের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের মুখে শোনা যাচ্ছে সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই-এর বিরুদ্ধে স্লোগান। কোথাও কোথাও আবার ইরানের প্রাক্তন যুবরাজ রেজা পাহলভি-এর সমর্থনেও স্লোগান উঠেছে।
আরও পড়ুন- Breaking News:জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পুরনো দলেই ফিরলেন তৃণমূল সাংসদ মৌসুম নূর
২৭ প্রদেশে ছড়িয়েছে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১২০০-র বেশি
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট ও টাইমস অফ ইজরায়েল-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২৭টি প্রদেশের ২৫০-র বেশি এলাকায় এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক Human Rights Activists News Agency-র দাবি, গত এক সপ্তাহে ১,২০০-র বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—
২৯ জন বিক্ষোভকারী
৪ জন শিশু
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ২ জন সদস্য
অন্যদিকে, ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালীন ২৫০ জন পুলিশকর্মী ও বেসিজ বাহিনীর ৪৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের মধ্যে আলোচনা চলছে
এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল-এর মধ্যে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন, বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকাও ইরান সংক্রান্ত কৌশলগত হিসাব-নিকাশে প্রভাব ফেলছে।
আরও পড়ুন-West Bengal Winter: মরার উপর খাঁড়ার ঘা, উত্তুরে হাওয়ার সঙ্গে এবার নিম্নচাপ! আরও কাঁপবে বাংলা?
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ‘হিংসা হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত’
২ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “যদি ইরানি কর্তৃপক্ষ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে গুলি চালায় বা সহিংসতা বাড়ায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত থাকবে জবাব দেওয়ার জন্য।”
নিজের সামাজিক মাধ্যম Truth Social-এ ট্রাম্প আরও লেখেন, ইরান যদি অতীতের মতোই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমন করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র “লকড অ্যান্ড লোডেড” অবস্থায় থাকবে।
রেজা পাহলভির খোলা সমর্থন
নির্বাসনে থাকা ইরানের প্রাক্তন যুবরাজ রেজা পাহলভি প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়েছেন।
সোমবার সামাজিক মাধ্যম X (প্রাক্তন টুইটার)-এ তিনি লেখেন, যে শাসন নিরস্ত্র তরুণদের হত্যা করে এবং হাসপাতালের উপর হামলা চালায়, তার কোনও বৈধতা নেই।” তিনি আরও বলেন, ইরানের জনগণ স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই করছে এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থা শেষের পথে।
খামেনেই দেশ ছাড়তে পারেন—গুজব নাকি বাস্তব?
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এমন খবরও প্রকাশ পেয়েছে যে, আলি খামেনেই দেশ ছেড়ে রাশিয়া বা ইরাক-এ আশ্রয় নিতে পারেন। যদিও এই দাবি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছেন ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত।
বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে চলমান আন্দোলন শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট নয়, বরং এর প্রভাব পড়তে পারে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও।





