ভোটের মুখে বাংলায় নজিরবিহীন সংঘাত: আই-প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডি তল্লাশি, মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে চরম উত্তেজনা
নিউজ বাজার২৪ ডেস্কঃ ভোটের আগে বাংলার রাজনীতিতে তৈরি হল এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের কর্ণধার Pratik Jain-এর কলকাতার লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেকের গোদরেজ ওয়াটারসাইডে অবস্থিত আই-প্যাকের অফিসে একযোগে তল্লাশি চালাল Enforcement Directorate। তল্লাশি চলাকালীন ঘটনাস্থলে স্বয়ং পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। এর পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তল্লাশির মাঝেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রবেশ, ফাইল নিয়ে বেরোনোর অভিযোগ
গোদরেজ ওয়াটারসাইডে আই-প্যাকের অফিসে ইডির আধিকারিকরা যখন নথি খতিয়ে দেখছেন, সেই সময় সেখানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অফিস থেকে একাধিক ফাইল গাড়িতে তোলা হচ্ছিল। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীও কিছু নথি হাতে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এই দৃশ্য ঘিরেই শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূলের আইটি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, হার্ড ডিস্ক ও সম্ভাব্য প্রার্থী সংক্রান্ত নথি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তাঁর দাবি, ভোটের ঠিক আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
ইডির পাল্টা বক্তব্য: ক্ষমতার অপব্যবহার করে নথি সরানো হয়েছে
অন্যদিকে ইডির বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এটি একটি চলমান কয়লা দুর্নীতি মামলার তদন্ত। এর সঙ্গে ভোট বা রাজনীতির কোনও যোগ নেই। ইডির অভিযোগ, সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তদন্তাধীন নথি বেআইনিভাবে সরিয়ে নিয়েছেন। এই ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছে ইডি।
কয়লা দুর্নীতি মামলার সূত্রেই আই-প্যাকের নাম?
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলায় বৃহস্পতিবার দেশের মোট ১০টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। এর মধ্যে বাংলায় ছয়টি এবং দিল্লিতে চারটি জায়গা রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, চুরি হওয়া কয়লার একটি বড় অংশ বাঁকুড়া, বর্ধমান ও পুরুলিয়ার বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বাজারে বিক্রি করা হয়েছিল।
ইডির দাবি অনুযায়ী, এই পাচার চক্রে হাওয়ালা মারফত আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। তদন্তে উঠে আসে ‘শাকম্ভরী গ্রুপ অফ কোম্পানিজ’-এর নাম। সেই আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই সামনে আসে আই-প্যাকের নাম। অভিযোগ, ইন্ডিয়ান প্যাক কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেডের মধ্যস্থতায় প্রায় ১০ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে। একাধিক অভিযুক্তের বয়ানে প্রতীক জৈনের নাম উঠে এসেছে বলেও ইডির দাবি।
হনুমানের তাড়ায় ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত যুবক, করনদীঘিতে আতঙ্ক
আই-প্যাক ও তৃণমূলের সম্পর্ক
আই-প্যাক দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কৌশলগত পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে আসছে। বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কৌশল, ভোট পরিকল্পনা ও সমীক্ষার ক্ষেত্রে এই সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। ২০২১ সালে প্রশান্ত কিশোর আই-প্যাক থেকে সরে যাওয়ার পর বাংলায় সংস্থার কার্যকলাপের দায়িত্ব মূলত প্রতীক জৈনের হাতেই ছিল।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তুঙ্গে
এই ঘটনায় বিরোধী শিবির প্রশ্ন তুলেছে—একটি কর্পোরেট সংস্থার অফিসে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তল্লাশি চালানো আইনসম্মত হলেও সেখানে রাজনৈতিক প্রার্থী তালিকা থাকার দাবি কতটা যুক্তিসংগত? অন্যদিকে শাসক শিবিরের দাবি, ভোটের আগে ভয় দেখাতেই এই অভিযান।
কেন এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ
ভোটের আগে কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত আরও তীব্র হল
কয়লা দুর্নীতি মামলায় নতুন করে উঠে এল ভোটকুশলী সংস্থার নাম
সাংবিধানিক ক্ষমতা বনাম কেন্দ্রীয় তদন্তের সীমারেখা নিয়ে প্রশ্ন
গোটা দেশের নজর কাড়ল বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি
ভোটের আবহে এই ঘটনা রাজ্যের রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





