Newsbazar24:
প্রথমেই স্বীকার করে নিতে হবে যে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই ভারতবিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠীকে মদত দিয়ে এসেছে। এবার তারাই নানাভাবে নানানামে পাকিস্তানের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তাদের মধ্যে অন্যতম বিদ্রোহী গোষ্ঠী হলো বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। কারণ কয়েক দশক পরে রীতিমতো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এক সশস্ত্র বিদ্রোহী বাহিনী। তারা খনিজে সমৃদ্ধ এই এলাকার স্বাধীনতা দাবি করছে। প্রতিনিয়ত রক্ত ঝরছে এখানে। আর সর্বশেষ ঘটনা হল ট্রেন অপহরণ। এর পিছনে রয়েছে ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সক্রিয় সবথেকে শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। বর্তমানে রমজান চলছে। আর ঈদের আনন্দে মেতে উঠতে জাফর এক্সপ্রেসে বাড়ি ফিরছিলেন অফিসার এবং নাগরিকরা। কোয়েত্তা থেকে ৩০ ঘণ্টা যাত্রা করে পেশোয়ার যাচ্ছিল ট্রেনটি। একটি প্রত্যন্ত এলাকার সুড়ঙ্গপথে ট্রেনটি আচমকাই থেমে যায়। সেখানে চলে গুলিযুদ্ধ। অপহরণ করা হয় ৪০০ যাত্রী বোঝাই ট্রেনটিকে। এভাবে ট্রেন অপহরণ করে যাত্রীদের পণবন্দি বানিয়ে বিদ্রোহীরা বালুচ রাজনৈতিক বন্দি এবং সেখানকার নাগরিকদের মুক্তির দাবি জানায়। আর তাদের দাবি না মেটানো হলে গোটা ট্রেন উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
মোটামুটি ৩০ ঘণ্টা স্নায়ুযুদ্ধ চলে। এরই মধ্যে ৩৩ জন বিদ্রোহীকে হত্যা করে পণবন্দিদের উদ্ধার করে পাক বাহিনী। তবে অন্তত ২১ যাত্রী এবং ৪ জন নিরাপত্তা আধিকারিক নিহত হয়েছেন। এই অপহরণ কিন্তু বালুচ আন্দোলনে এক নয়া অধ্যায় যোগ করল। আর এই বিদ্রোহের মূলে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ আলি জিন্নাহর বিশ্বাসঘাতকতা। বালুচরা কেন স্বাধীনতা চান? বরাবরই স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখে এসেছে পাকিস্তানের বৃহত্তম অথচ সবথেকে থেকে জনবহুল এই প্রদেশটি। বালুচরা এখন সম্পদের শোষণ এবং প্রান্তিকীকরণের অভিযোগ করছে, যা জাতিগত অসন্তোষ এবং পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এমনিতে খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ বালুচিস্তান। চাঘি জেলার রেকো ডিক এবং সৈন্ডকে বড় বড় সোনা এবং তামার খনি আছে। শুধু তা-ই নয়, এখানে রয়েছে লৌহ আকরিক, সীসা, জিঙ্ক এবং কয়লার খনিও। বালুচদের দাবি, সরকার এই সম্পদগুলির অপব্যবহার করছে, যার উপর শুধুই এখানকার বাসিন্দাদের অধিকার। এখনো দেখার পাকিস্তান কীভাবে এই বিদ্রোহকে সামাল দেয়।



