প্রথমবার ব্যর্থতা, দ্বিতীয় চেষ্টাতেই AIR 9 — মহেন্দ্রগড়ের এসডিএম আইএএস কানিকা গোয়েলের লড়াই-জয়ের কাহিনি
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ অনেকেই যখন স্কুলজীবনেই ভবিষ্যৎ নিয়ে দোটানায় থাকেন, তখনই নিজের লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছিলেন কানিকা গোয়েল। ছোটবেলা থেকেই জানতেন—তাঁকে সিভিল সার্ভিসেই যেতে হবে। সেই স্বপ্নের পথে ছিল পরিশ্রম, হতাশা, আত্মসমালোচনা—আর ছিল অদম্য জেদ। আজ তিনি ২০২৩ ব্যাচের আইএএস অফিসার; বর্তমানে হরিয়ানা রাজ্যের মহেন্দ্রগড় জেলার এসডিএম হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
মেধা ও শৃঙ্খলার ভিত
হরিয়ানার মডেল টাউনের বাসিন্দা কানিকা স্কুলজীবন থেকেই মেধাবী ও নিয়মিত পড়ুয়া হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দশম শ্রেণিতে ১০ সিজিপিএ, দ্বাদশ শ্রেণিতে স্টেট টপার—এই সাফল্যগুলো ছিল তাঁর অধ্যবসায়ের প্রাথমিক প্রমাণ।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ভর্তি হন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডি শ্রী রাম কলেজে। পলিটিক্যাল সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের সময় থেকেই তাঁর লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা। তাই ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবেও বেছে নেন পলিটিক্যাল সায়েন্স—নিজের শক্তির জায়গাকেই ভরসা করেছিলেন।
আরও পড়ুন- বাসন বিক্রেতার ঘর থেকে IAS অফিসার—নমামি বংশালের অনুপ্রেরণামূলক সাফল্যের গল্প
প্রথম ব্যর্থতার ধাক্কা
স্নাতক শেষ করেই শুরু হয় পূর্ণমাত্রার প্রস্তুতি। নিয়মিত স্টাডি প্ল্যান, নোটস তৈরি, মক টেস্ট—সবকিছুই ছিল ছকে বাঁধা। কিন্তু প্রথম প্রচেষ্টায় প্রিলিমসে ব্যর্থতার খবর তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।পরিবার-পরিজনের প্রত্যাশা, নিজের স্বপ্ন—সবকিছু মিলিয়ে সেই মুহূর্তটা সহজ ছিল না। তবে কানিকা ভেঙে পড়েননি। তিনি বুঝেছিলেন, ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়—বরং কোথায় ঘাটতি আছে, তা বুঝে নেওয়ার সুযোগ।
নতুন করে শুরু, আরও শক্ত প্রস্তুতি
প্রথম ব্যর্থতার পর তিনি নিজের প্রস্তুতির কৌশল বদলান। সিলেবাসকে আরও সূক্ষ্মভাবে ভাগ করেন, পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করেন এবং সময় ব্যবস্থাপনায় জোর দেন। মানসিকভাবে নিজেকে স্থির রাখতে নিয়মিত রিভিশন ও মক টেস্টের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার কাজও চালিয়ে যান।পরিশ্রমের ফল মেলে ২০২২ সালে। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তিনি অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ৯ অর্জন করেন—যা শুধু তাঁর পরিবার নয়, গোটা রাজ্যের কাছেই গর্বের মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
ফলের দিন: অবিশ্বাস থেকে আনন্দ
এক সাক্ষাৎকারে কানিকা জানিয়েছিলেন, ফল প্রকাশের দিন নিজের নাম টপ ১০ তালিকায় দেখে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি। তিনবার ফলাফল মিলিয়ে দেখার পর নিশ্চিত হন। সেই মুহূর্তে প্রথম ব্যর্থতার কষ্ট যেন মিলিয়ে যায়।
দায়িত্বে মানবিক প্রশাসক
বর্তমানে মহেন্দ্রগড় জেলার এসডিএম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কানিকা গোয়েল। প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি মাঠে নেমে কাজ করার পক্ষপাতী।মহেন্দ্রগড়কে অবৈধ দখলমুক্ত করতে তিনি নিজে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা চেয়েছেন। তাঁর মতে, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের যৌথ উদ্যোগেই উন্নয়ন সম্ভব।সহকর্মীদের মতে, তিনি কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হন না, তবে সবকিছুতেই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখেন।
তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা
কানিকা গোয়েলের গল্প আজ অসংখ্য ইউপিএসসি প্রত্যাশীর কাছে সাহসের প্রতীক। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন—প্রথমবার ব্যর্থ হওয়া মানেই স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া নয়। আত্মবিশ্বাস, সঠিক কৌশল এবং অধ্যবসায় থাকলে সাফল্য একদিন ধরা দেয়ই। স্বপ্ন দেখার সাহস আর সেই স্বপ্ন পূরণের জেদ—এই দুইয়ের মেলবন্ধনই তাঁকে দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক পরিষেবায় জায়গা করে দিয়েছে। তাঁর পথচলা প্রমাণ করে, সাফল্যের আসল চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে অবিচল পরিশ্রম আর বিশ্বাসের ভেতরেই।





