হাওড়া-পুরী ১২০ মিনিটের পরিকল্পনা কী
হাওড়া থেকে পুরী যেতে আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগবে না! ভারতীয় রেলের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী মাত্র ১২০ মিনিটেই এই দূরত্ব পেরোনো সম্ভব হতে পারে। বন্দে ভারতের পর এবার আরও দ্রুতগতির ট্রেন চালুর ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছে।
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক : ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণের চাকা এবার আরও দ্রুত গতিতে ঘুরতে শুরু করেছে। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত ভারতের দ্রুততম ট্রেন বলতে আমরা জানতাম শতাব্দী বা রাজধানী এক্সপ্রেসকে। এরপর আসে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস (Vande Bharat Express), যা যাতায়াতের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে। কিন্তু এবার বন্দে ভারতকেও টক্কর দিতে নতুন এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প হাতে নিতে চলেছে রেলমন্ত্রক। যদি এই পরিকল্পনা সফল হয়, তবে হাওড়া থেকে পুরী যেতে সময় লাগবে মাত্র ২ ঘণ্টা। অর্থাৎ, সকালে কলকাতায় ব্রেকফাস্ট সেরে আপনি অনায়াসেই পুরীর সমুদ্র সৈকতে দুপুরের মধ্যাহ্নভোজ সারতে পারবেন।
বন্দে ভারতের চেয়েও দ্রুত: গতির লড়াইয়ে নতুন প্রযুক্তির অভিষেক
বর্তমানে হাওড়া-পুরী বন্দে ভারত এক্সপ্রেস প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সময় নেয় প্রায় ৬ ঘণ্টা ২৫ মিনিট। কিন্তু রেলের লক্ষ্য এখন এই সময়কে অর্ধেকেও কম নামিয়ে আনা। টিভি৯ বাংলার রিপোর্ট অনুযায়ী, রেল মন্ত্রক এমন এক ‘হাই-স্পিড’ করিডর তৈরির পরিকল্পনা করছে যা ট্রেনের গতিকে ২৫০-৩০০ কিমি প্রতি ঘণ্টায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
বন্দে ভারত মূলত একটি সেমি-হাই স্পিড ট্রেন। এটি ১৬০ কিমি বেগে চলতে পারলেও বর্তমান ট্র্যাকের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক জায়গায় এর গতি কমিয়ে রাখতে হয়। কিন্তু নতুন পরিকল্পনায় সম্পূর্ণ আলাদা ট্র্যাক বা ‘ডেডিকেটেড করিডর’ ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে, যা বুলেট ট্রেনের মতোই দ্রুত পরিষেবা দেবে।
আরও পড়ুন-এনজেপি থেকে সোজা হরিদ্বার! বন্দে ভারত স্লিপার মিশনে জুড়ছে উত্তরবঙ্গ ও উত্তরাখণ্ড
কেন হাওড়া-পুরী রুটকেই বেছে নেওয়া হচ্ছে?
রেল মন্ত্রকের এই বিশেষ পরিকল্পনার পেছনে বেশ কিছু কৌশলগত ও ব্যবসায়িক কারণ রয়েছে: ১. পর্যটন ও ধর্মীয় আবেগ: বাঙালির অন্যতম প্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হলো পুরী। সারা বছরই এই রুটে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। যাতায়াতের সময় কমলে পর্যটকদের সংখ্যা আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে। ২. অর্থনৈতিক করিডর: পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে বাণিজ্যিক লেনদেন সহজ হবে। ৩. বিমানের সাথে টক্কর: মাত্র ২ ঘণ্টায় পুরী পৌঁছানো গেলে মানুষ বিমানের বদলে ট্রেনকেই বেশি গুরুত্ব দেবে, যা রেলের রাজস্ব বাড়াতে সাহায্য করবে।
চ্যালেঞ্জ কোথায়? উন্নত ট্র্যাক ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা
মাত্র ২ ঘণ্টায় হাওড়া থেকে পুরী যাওয়া যতটা সহজ মনে হচ্ছে, প্রযুক্তিগতভাবে এটি ততটাই চ্যালেঞ্জিং। এর জন্য প্রয়োজন:
নতুন ট্র্যাক নির্মাণ: বর্তমানের ট্র্যাকগুলো ২৫০ কিমি বেগে ট্রেন চালানোর উপযোগী নয়। তাই এই রুটে নতুন করে লাইন পাতার প্রয়োজন হতে পারে।
অত্যাধুনিক সিগন্যালিং: ট্রেনের গতি যখন ২০০ কিমি ছাড়িয়ে যায়, তখন সিগন্যালিং ব্যবস্থার বিন্দুমাত্র ত্রুটি বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। এর জন্য ‘কবচ’ (Kavach)-এর মতো অত্যাধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা সারা পথ জুড়ে থাকা বাধ্যতামূলক।
লেভেল ক্রসিং বর্জন: উচ্চগতি বজায় রাখতে হলে সারা পথ জুড়ে কোনো লেভেল ক্রসিং রাখা যাবে না। পরিবর্তে সব জায়গায় ওভারব্রিজ বা আন্ডারপাস করতে হবে।
স্লিপার বন্দে ভারত ও আগামী দিনের ভাবনা
রেল সূত্রে খবর, উচ্চগতির এই নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি খুব শীঘ্রই হাওড়া-পুরী রুটে স্লিপার বন্দে ভারত (Vande Bharat Sleeper Train) চালু হতে পারে। এতে রাতে হাওড়া থেকে যাত্রা শুরু করে সকালে পুরী পৌঁছানো যাবে আরও আরামদায়কভাবে। তবে বর্তমানের গতির যে লক্ষ্যের কথা বলা হচ্ছে (২ ঘণ্টায় পুরী), তা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি এশিয়ার অন্যতম সেরা রেল পরিষেবা হিসেবে চিহ্নিত হবে।
যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া
এই খবরের গুঞ্জন শুরু হতেই সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। রেলের নিয়মিত যাত্রীদের মতে, যদি সত্যিই ২ ঘণ্টায় পুরী যাওয়া সম্ভব হয়, তবে এটি হবে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ বা যারা শারীরিক সমস্যার কারণে দীর্ঘ সময় ট্রেনে বসে থাকতে পারেন না, তাদের জন্য এটি বড় আশীর্বাদ হবে।



