নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি থাকলেও অধরাই হরিশ্চন্দ্রপুরের মাখনা শিল্প
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ নির্বাচনি প্রচারে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী—উভয়েই হরিশ্চন্দ্রপুরের মাখনাকে কেন্দ্র করে শিল্প গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে বাস্তবে আজও সেই প্রতিশ্রুতির কোনও কার্যকর রূপ দেখা যায়নি। ফলে স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
বিহার এগোলেও পিছিয়ে বাংলা
মাখনা প্রক্রিয়াকরণে বিহার সরকার কেন্দ্রীয় প্যাকেজ ও মাখনা বোর্ড গঠন করেছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে তেমন কোনও বড় পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। তাই এই শিল্পে বাংলা এখনও পিছিয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।
আরও পড়ুন- রাতের অন্ধকারে আম–লিচু বাগানে চলছিল ব্রাউন সুগার তৈরির কারখানা, কালিয়াচকে পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৫, উদ্ধার দুই কোটির মাদক
অটোমেশন উদ্যোগ থাকলেও সাফল্য সীমিত
এদিকে হরিশ্চন্দ্রপুরে মাখনা প্রক্রিয়াকরণে অটোমেশন চালু করতে রাজ্য সরকার এমএসএমই প্রকল্পে একটি ক্লাস্টার তৈরি করেছে। প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা খরচ করে সেখানে যন্ত্রের মাধ্যমে মাখনা বীজ থেকে খই উৎপাদন শুরু হয়েছে। কিন্তু সরকারি প্রচার ও বাজারজাতকরণের অভাবে এই উদ্যোগ এখনও বড় আকারে সফল হয়নি।
এখনও ভরসা পুরনো পদ্ধতিতে
এই কারণেই এলাকার অধিকাংশ ব্যবসায়ী এখনও হাতে তৈরি বা প্রচলিত পদ্ধতির উপর নির্ভর করছেন। বর্তমানে বিহারের দ্বারভাঙ্গা এলাকা থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের মাধ্যমেই মূলত মাখনা খই উৎপাদন হচ্ছে।
মেশিন বনাম হাতে তৈরি মাখনা
একদিকে এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, মেশিনের মাধ্যমে মাখনা প্রক্রিয়াকরণ হলে তা আরও স্বাস্থ্যসম্মত হবে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, মেশিনে তৈরি মাখনায় উৎপাদন কম হয়। পাশাপাশি খইয়ের গুণমানও ততটা ভালো থাকে না।
ক্লাস্টার কর্তৃপক্ষের দাবি
তবে মাখনা ক্লাস্টারের পরিচালন কমিটির ডিরেক্টর বদরুল ইসলাম জানান, শুধুমাত্র মেশিনের মাধ্যমে অত্যন্ত পরিচ্ছন্নভাবে মাখনা খই উৎপাদন করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এতে কম সময়ে কম খরচে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে এবং কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে।
চাষিদের অভিযোগ ও ক্ষতির কথা
অন্যদিকে চাষিদের অভিযোগ আলাদা। তাঁদের দাবি, মাখনা চাষের জন্য এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি ঋণ বা ভর্তুকির ব্যবস্থা নেই। কয়েক বছর আগে খরার সময় চাষে বড় ক্ষতির মুখে পড়লেও সরকার বা ব্যাঙ্কের তরফে তেমন সহায়তা মেলেনি।
মহিলা শ্রমিকদের মজুরি প্রশ্নে ক্ষোভ
হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার বিভিন্ন কারখানায় স্থানীয় মহিলারা দৈনিক মজুরিতে মাখনা ঝাড়াই, বাছাই ও প্যাকেজিংয়ের কাজ করেন। কিন্তু অভিযোগ, দীর্ঘ সময় কাজ করানো হলেও নিয়ম অনুযায়ী পর্যাপ্ত মজুরি দেওয়া হয় না।
বিপুল রপ্তানি হলেও উন্নয়ন নেই
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকা থেকে প্রায় ১০ লক্ষ বস্তা মাখনা খই দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও বিদেশে রপ্তানি হয়। এর মধ্যে আমেরিকাও রয়েছে। তবু এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত চাষি ও শ্রমিকদের আর্থিক অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি।
হরিশ্চন্দ্রপুর ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক পবন কেডিয়া বলেন, “সরকার অটোমেশন চালু করেছে ঠিকই, কিন্তু তা এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।”
অপর ব্যবসায়ী রুপেশ আগরওয়ালের মতে, হাতে তৈরি মাখনায় উৎপাদন বেশি হয় এবং খইয়ের আকারও বড় পাওয়া যায়।
কিষানসভার জেলা সভাপতি অজিত সাহার প্রশ্ন, “মাখনাকে কেন্দ্র করে শিল্প গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তার কোনও অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।”





