নিউজবাজার২৪ ডেস্ক, মালদা: চারদিকে উঁচু পাঁচিল, বিশাল লোহার গেট আর পাহারায় নিরাপত্তারক্ষী— বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা একেবারে উল্টো। সন্ধে নামলেই মালদার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হয়ে উঠছে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র। এমনকি ক্যাম্পাস থেকে মিলছে মদের বোতলও! এই পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষক মহলে।
কেন এই নিরাপত্তাহীনতা?
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, বিশাল এই ক্যাম্পাসের সীমান্ত সংলগ্ন প্রায় ১৪৬ মিটার অংশে এখনও কোনও সীমানা প্রাচীর তৈরি হয়নি। এই উন্মুক্ত অংশই এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ, এই ফাঁকা জায়গা দিয়েই দিনে-দুপুরে যখন তখন বহিরাগত যুবকেরা ঢুকে পড়ছে। রাতে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। ছাত্রছাত্রীদের দাবি, বহিরাগতরা এসে ক্যাম্পাসের পুকুরে মাছ ধরছে, আড্ডা দিচ্ছে, এমনকি নেশার আসরও বসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও নিরাপত্তা দুই-ই এখন প্রশ্নের মুখে।
ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ক্ষুব্ধ ছাত্রী বলেন, “দিনের বেলাতেই যদি অচেনা লোকজন ঘুরে বেড়ায়, তবে সন্ধের পর আমরা বেরোব কী করে? ক্যাম্পাসের অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত আলো নেই। আমরা সব সময় একটা আতঙ্কের মধ্যে থাকি। দ্রুত এই দেওয়াল তোলা এবং নিরাপত্তা বাড়ানো উচিত।”
উল্লেখ্য, দেড় বছর আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবনের ভেতরে ঢুকে এক ছাত্রীর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনও টাটকা। তারপরও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এমন ফাঁকফোকর দেখে বিস্মিত অনেকেই।
আরও পড়ুন-কালিয়াচক থেকে মানিকচক:নজর এড়াতে এবার ‘জলপথ’ বেছে নিচ্ছে মাদক কারবারিরা! নদীর চরেই কি হাতবদল?
কর্তৃপক্ষ কী বলছে?
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি মাসে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সংস্থার মেয়াদ শেষ হয়েছে। যদিও উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তিনি বলেন, “ওই সংস্থা রক্ষী তুলে নিতে চেয়েছিল, আমরা তাদের অনুরোধ করেছি পরিষেবা চালু রাখতে। পাশাপাশি নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।”
সীমানা প্রাচীর প্রসঙ্গে উপাচার্য জানান, পিডব্লিউডি (PWD) দপ্তর ইতিমধ্যেই মাপজোখ করে গেছে। এস্টিমেট বা খরচের হিসাব পেলেই ১৪৬ মিটারের ওই দেওয়ালে কাজ শুরু হবে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য তথা ওয়েবকুপা নেতা সনাতন দাসও বিষয়টিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে স্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, পড়ুয়াদের নিরাপত্তা সবার আগে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
উঠেছে একাধিক প্রশ্ন
এত বড় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি এবং নিরাপত্তারক্ষী থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার বহিরাগতরা প্রবেশের সাহস পাচ্ছে? কেন দেড় বছরেও ওই সামান্য অংশের দেওয়াল তৈরি করা সম্ভব হলো না? ভবিষ্যতে বড় কোনও অঘটন ঘটলে তার দায়ভার কে নেবে? উত্তর খুঁজছেন পড়ুয়ারা।





