নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক : ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দুর্নীতি, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে বারবার বিতর্কে জড়িয়েছে মালদহের গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। সমাবর্তন আয়োজনে ব্যর্থতা ও দুর্নীতির অভিযোগে এর আগে তৎকালীন উপাচার্য পবিত্র চট্টোপাধ্যায়-কে রাজ্যপাল অপসারণ করেন। এরপর নতুন উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্য দায়িত্ব নিলেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি বলেই অভিযোগ উঠছে।
রেজিস্ট্রার অপসারণ ঘিরে বিক্ষোভ
শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডঃ বিশ্বজিৎ দাস-কে হঠাৎ অপসারণের প্রতিবাদে উপাচার্যকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখান অধ্যাপক ও অশিক্ষক কর্মীদের একাংশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, উপাচার্য আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করেই ডঃ বিশ্বজিৎ দাসকে অপসারণ করে দর্শন বিভাগের অধ্যাপিকা জোৎস্না সাহা-কে দায়িত্ব দেন। অথচ সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী ২২ মার্চ পর্যন্ত ডঃ দাসের দায়িত্বে থাকার কথা ছিল বলে দাবি তাঁদের।
এক বিক্ষোভকারী অধ্যাপকের কথায়,“ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডঃ বিশ্বজিৎ দাস তাঁর ছেলের পরীক্ষার জন্য ২১ জানুয়ারি ছুটির আবেদন করেছিলেন এবং ৯ মার্চ পর্যন্ত ছুটি চেয়েছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতেই তাঁকে হঠাৎ অপসারণ করা হয়। এর কারণ আমরা জানতে চাই।
আরও পড়ুন-মালদহের মহদিপুর সীমান্তে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার, উদ্ধার টাকা ও মোবাইল
প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগ উঠেছে, এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক না ডেকে উপাচার্য একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং নিজের পছন্দমতো ব্যক্তিকে বিভিন্ন পদে বসাচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট আইন ও রাজ্য সরকারের বিধি অনুসরণ করা হচ্ছে না।
শুক্রবার সকালে উপাচার্য অফিসে পৌঁছাতেই অধ্যাপক ও অশিক্ষক কর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে উপাচার্যের কক্ষে প্রবেশ করলে তুমুল বাকবিতণ্ডা হয় বলে জানা গেছে।
যদিও এই ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত উপাচার্যের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বিতর্কের ছায়া কাটছে না
উপাচার্য বদল হলেও গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে বিতর্ক থামছে না—এদিনের ঘটনায় সেই চিত্রই আরও স্পষ্ট হল বলে মত শিক্ষামহলের একাংশের। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর মালদহের শিক্ষাঙ্গনের।





