গ্যাস এজেন্সি খুলতে কত খরচ লাগে?
নিজের ব্যবসা শুরুর সুবর্ণ সুযোগ! গ্যাস এজেন্সি কীভাবে খুলবেন? জানুন আবেদন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা
নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক : বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে একটি লাভজনক এবং স্থায়ী ব্যবসার কথা ভাবলে প্রথমেই মাথায় আসে এলপিজি (LPG) গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরশিপ বা গ্যাস এজেন্সির কথা। ভারতের ঘরে ঘরে রান্নার গ্যাসের চাহিদা থাকায় এই ব্যবসার ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। আপনিও যদি একজন সফল উদ্যোক্তা হতে চান, তবে কেন্দ্রীয় সরকারের তেল বিপণন সংস্থাগুলোর অধীনে গ্যাস এজেন্সি খোলার জন্য আবেদন করতে পারেন। নিচে এর বিস্তারিত প্রক্রিয়া আলোচনা করা হলো।
১. আবেদনের প্রাথমিক যোগ্যতা
গ্যাস এজেন্সি খোলার জন্য আবেদনকারীকে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়:
নাগরিকত্ব: আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম দশম শ্রেণী (10th Standard) পাশ হতে হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
বয়স: আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
পারিবারিক যোগসূত্র: তেল সংস্থার কোনো কর্মীর পরিবারের সদস্য আবেদন করতে পারবেন না।
২. প্রয়োজনীয় জমি ও পরিকাঠামো
গ্যাস এজেন্সি খোলার প্রধান শর্ত হলো নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি।
গুদাম বা গোডাউন: সিলিন্ডার মজুত রাখার জন্য অগ্নিনির্বাপক আইন মেনে একটি বড় গোডাউনের জমি থাকতে হবে।
শোরুম: জনসাধারণের যোগাযোগের জন্য একটি শোরুম বা অফিসের জায়গা থাকতে হবে। এই জমি বা দোকান নিজের নামে হতে পারে অথবা দীর্ঘমেয়াদী লিজে (Lease) নেওয়া থাকতে পারে।
৩. আবেদন প্রক্রিয়া (কীভাবে শুরু করবেন?)
তেল সংস্থাগুলো (যেমন—ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম বা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম) নিয়মিত তাদের ওয়েবসাইটে এবং সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দেয়।
অনলাইন পোর্টাল: সাধারণত lpgvitarakchayan.in ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়।
রেজিস্ট্রেশন: প্রথমে পোর্টালে গিয়ে নিজের নাম নথিভুক্ত করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট এলাকার জন্য দেওয়া বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করতে হবে।
১. সংশ্লিষ্ট তেল সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান
২. ‘LPG Distributorship’ বা ‘Dealership’ সেকশনে ক্লিক করুন
৩. নতুন বিজ্ঞপ্তি (Advertisement) দেখুন
৪. অনলাইন ফর্ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করুন
৫. আবেদন ফি জমা দিয়ে সাবমিট করুন
৪. নির্বাচন পদ্ধতি
আবেদন জমা পড়ার পর সংস্থাগুলো আবেদনকারীর যোগ্যতা ও জমি যাচাই করে। যদি একই এলাকার জন্য অনেক আবেদন জমা পড়ে, তবে লটারির (Draw of Lots) মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউটর নির্বাচন করা হয়। লটারিতে নাম ওঠার পর জমির ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন করা হয়।
৫. প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ (Investment)
গ্যাস এজেন্সি খুলতে গেলে এককালীন মোটা টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়।
সিকিউরিটি ডিপোজিট: এলাকা ভেদে (শহুরে বা গ্রামীণ) ৫ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা দিতে হতে পারে।
লাইসেন্স ফি: আবেদনের সময় নির্দিষ্ট ফি দিতে হয়। এছাড়া পরিকাঠামো তৈরি, গাড়ি কেনা এবং কর্মী নিয়োগের জন্য অতিরিক্ত খরচ থাকে।
৬. প্রয়োজনীয় নথিপত্র
আবেদনের সময় এবং পরবর্তী ভেরিফিকেশনে নিচের নথিগুলো প্রয়োজন হয়:
আধার কার্ড ও প্যান কার্ড।
জমির পর্চা ও মিউটেশন সংক্রান্ত সমস্ত বৈধ কাগজ।
শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট।
ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট ও সচ্ছলতার প্রমাণপত্র।
৭. লাভের পরিমাণ (Profit Margin)
গ্যাস এজেন্সিতে মূল আয় হয় প্রতিটি সিলিন্ডারের কমিশন থেকে। সরকার নির্ধারিত হারে প্রতিটি ভর্তি সিলিন্ডার ডেলিভারি করার জন্য ডিস্ট্রিবিউটরকে কমিশন দেওয়া হয়। এছাড়া নতুন গ্যাস কানেকশন, চুলা বিক্রি এবং সার্ভিসিং থেকেও ভালো আয় করার সুযোগ থাকে।





