মকর সংক্রান্তির আগেই আতঙ্ক, গঙ্গাসাগর মেলার শুরুতেই কপিলমুনির আশ্রম চত্বরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ শুরুর দিনেই তীব্র আতঙ্ক ছড়াল গঙ্গাসাগর মেলায়। মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নানের আগেই বড় বিপত্তি। গঙ্গাসাগর মেলার সূচনালগ্নে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল কপিলমুনির আশ্রম চত্বরে। স্থানীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার ভোর আনুমানিক পাঁচটা নাগাদ আশ্রম সংলগ্ন ২ নম্বর রোডের অস্থায়ী হোগলার ছাউনিগুলিতে আচমকাই আগুন লাগে।
ভোরের সময় গোটা এলাকা ছিল ঘন কুয়াশায় ঢাকা। সেই সময়ই একটি ছাউনি থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। শুকনো হোগলা পাতা দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ছাউনিগুলিতে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন বিধ্বংসী রূপ নেয়। একের পর এক ছাউনিতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়েই পুণ্যার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঝোপে রক্তাক্ত অর্ধনগ্ন মহিলার মৃতদেহ, পাশে বসে তিন বছরের শিশু—মুর্শিদাবাদে চাঞ্চল্য
প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারাই বালতি করে জল ঢেলে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। পরে দ্রুত খবর দেওয়া হয় দমকল ও পুলিশ প্রশাসনকে। খবর পেয়ে একাধিক দমকল ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ঘটনাস্থলে যান সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও-সহ জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
এই অগ্নিকাণ্ডে ঠিক কতগুলি অস্থায়ী ছাউনি পুড়ে ছাই হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট অথবা রান্নার উনুন থেকেই এই ভয়াবহ বিপত্তি ঘটে থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, এর কয়েক দিন আগেই—৫ জানুয়ারি—গঙ্গাসাগরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের লক্ষ্যে গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে মুড়িগঙ্গা নদী পারাপার করতে গিয়ে স্থানীয় মানুষকে ঘন জঙ্গল, বাঘ, কুমির ও সাপের আতঙ্কের মধ্যেই যাতায়াত করতে হত। সেই দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার অবসান ঘটাতেই এই সেতু প্রকল্প বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
গঙ্গাসাগরে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
“আজ আমি নিজেকে বাংলার মানুষের জন্য, সারা বিশ্বের পর্যটকদের জন্য, পুণ্যার্থীদের জন্য এবং সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য গর্বিত মনে করছি। আমরা মুখে বলি না, কাজে করি। গঙ্গাসাগর সেতু দীর্ঘদিনের মানুষের দাবি ও যন্ত্রণা।”
আইপ্যাকের কর্ণধারের বাড়িতে ও অফিসে ইডি হানা, রাজনৈতিক তরজায় মমতা-শুভেন্দু
তিনি আরও জানান, এই সেতু তৈরি হচ্ছে মুড়িগঙ্গা নদী-র উপর, কাকদ্বীপ-এর লট ৮ ও কচুবেড়িয়া-র মধ্যে। প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে চলা এই সেতু হবে প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ, চার লেনের অত্যাধুনিক সেতু। নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এলএনটি-কে, এবং আগামী দু’থেকে তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এই সেতু চালু হলে শুধু গঙ্গাসাগর মেলার সময় নয়, সারা বছর গঙ্গাসাগর ও সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের যাতায়াত, পর্যটন, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও জরুরি পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
গঙ্গাসাগর মেলার শুরুতেই অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা যেমন উদ্বেগ বাড়াল, তেমনই সদ্য ঘোষিত সেতু প্রকল্প ভবিষ্যতের নিরাপদ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার আশ্বাস দিল—এমনটাই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।





