কাটিহাটের মৃৎশিল্পীদের উত্তরণ
কাটিহাট এলাকার শতাধিক মৃৎশিল্পী পরিবার বংশপরম্পরায় মাটির পাত্র তৈরি করে আসছেন। কিন্তু একসময় প্রথাগত মাটির জিনিসের চাহিদা কমতে থাকায় তাঁরা আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। তবে হাল ছাড়েননি তাঁরা। এখানকার মৃৎশিল্পীরা শিলিগুড়ির মাটিগাড়া থেকে আধুনিক ডিজাইনের মাটির ফিল্টার তৈরির প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সেই আধুনিক শিক্ষাকে পুঁজি করে কাটিহাটের শিল্পীরা শুরু করেন এক নতুন যাত্রা। আজ সেই ফিল্টারই ভিনরাজ্যের বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয়।
ভিনরাজ্যে সুনাম ও রপ্তানি
গঙ্গারামপুরের এই মাটির ফিল্টার এখন নাগপুর, কানপুর, ভোপাল, ওডিশা এবং লখনউয়ের বাজারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। স্থানীয় মৃৎশিল্পী সমর পাল জানিয়েছেন, আগে সাধারণ পাত্রের বিক্রি কম ছিল, কিন্তু শিলিগুড়ির প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর আধুনিক ডিজাইনের এই ফিল্টার তৈরি শুরু করতেই বাজারে চরম চাহিদা দেখা দেয়। বর্তমানে এখানকার মৃৎশিল্পীদের একটি বড় অংশ এই লাভজনক পেশায় যুক্ত হয়ে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের মুখ দেখছেন।
আরও পড়ুন-ঘোষণা! পশ্চিমবঙ্গের এই টোল প্লাজায় অনির্দিষ্টকালের জন্য টোল দিতে হবে না,কোন গাড়ি পাবে সুবিধা?”
বছরের চার মাসই চূড়ান্ত ব্যস্ততা
মৃৎশিল্পী অচিন্ত্য পাল জানান, তাঁরা প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে এই ফিল্টার তৈরি করেছিলেন। বাজারে ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর থেকে এখন বছরের বেশিরভাগ সময়ই তাঁরা এই কাজ করেন। ফাল্গুন, চৈত্র, বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ—এই চার মাস ফিল্টারের চূড়ান্ত চাহিদা থাকে। শীতকাল থেকেই তাঁরা উৎপাদন ও রপ্তানি শুরু করে দেন। এবছর তাঁরা বিশেষ করে ‘গুজরাটি ডিজাইনের’ মাটির ফিল্টার তৈরি করছেন, যার বাজারে ব্যাপক কদর রয়েছে।
ব্যবসায়িক কাঠামো ও লাভের মুখ
মৃৎশিল্পী রত্ন পাল জানান, পাইকারি দরে প্রতিটি ফিল্টার ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিল্পীরা কখনও নিজেরাই বাইরে রপ্তানি করছেন, আবার কখনও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ভিনরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছেন তাঁদের হাতের এই শিল্পকর্ম। রত্ন পাল আরও জানান, এভাবে বাজারজাতকরণ অব্যাহত থাকলে এবং সরকারি সহায়তা পাওয়া গেলে আগামীতে সারা দেশেই গঙ্গারামপুরের এই মাটির ফিল্টার জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছাবে।
পরিশ্রম, ঐতিহ্য এবং দক্ষতার এই মেলবন্ধন গঙ্গারামপুরের মৃৎশিল্পকে আজ এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।





