রাত গভীর। নিয়মিত টহলে ছিল পুলিশ। আচমকা এক ব্যক্তির সন্দেহজনক ঘোরাফেরা নজরে আসতেই থামানো হয় তাঁকে। সেখান থেকেই শুরু জেরা, আর তাতেই বেরিয়ে আসে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকা, জাল আধার কার্ড তৈরি এবং অন্য রাজ্যে কাজ করার গল্প। এসআইআর কড়াকড়ির আবহে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গাজোলে।
জাতীয় সড়ক থেকে আটক, জেরায় সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশের স্বীকারোক্তি; জাল পরিচয়পত্র চক্রের খোঁজে তদন্তে নেমেছে পুলিশ
নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক ঃ রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া (SIR) ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। এই আবহেই গাজোল থানার পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন এক বাংলাদেশি নাগরিক। সোমবার গভীর রাতে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পান্ডুয়া এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের নাম ফিরোজ শেখ। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের জয়হাট জেলার রসূল ফুলবাড়ি এলাকায়।
কীভাবে সন্দেহ হলো পুলিশের?
সোমবার রাতে গাজোল থানার একটি টহলদারি দল নিয়মিত নজরদারিতে ছিল। সেই সময় পান্ডুয়া এলাকায় এক ব্যক্তিকে দীর্ঘক্ষণ উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।
প্রথমে পুলিশ তাঁর পরিচয় জানতে চায়। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন। এতে সন্দেহ আরও বাড়ে।
এরপর তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে বিস্তারিত জেরা করা হয়। তখনই তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি বাংলাদেশের বাসিন্দা এবং অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন।
এক বছর আগে সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশ
পুলিশি জেরায় জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে—রমজানের প্রায় পনেরো দিন আগে—তিনি ভারতে ঢোকেন।
তদন্তকারীদের দাবি, ভারতে প্রবেশের পরই তিনি একটি জাল আধার কার্ড তৈরি করেন। সেই ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তিনি গুজরাটে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছিলেন কয়েক মাস ধরে।
এসআইআর কড়াকড়িতে ভয় পেয়ে বাংলায় ফেরা?
সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে পরিচয় যাচাইয়ে কড়াকড়ি বেড়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ধৃত ব্যক্তি। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে এবং এখানে নজরদারি কম হবে—এই ধারণা থেকেই তিনি বাংলায় ফিরে আসেন।
আরও পড়ুন-মালদহে নার্সিংহোমে চাকরি দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ
জাল পরিচয়পত্র চক্রের খোঁজে তদন্ত
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গাজোল বা আশপাশ এলাকায় তাঁর কোনও পরিচিত ব্যক্তি বা এজেন্ট থাকতে পারে। সেই সূত্রেই তিনি ভাড়া বাড়ির সন্ধান করছিলেন।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন—
জাল আধার কার্ড কোথায় তৈরি হয়েছে
এর সঙ্গে কোনও সংগঠিত চক্র জড়িত কি না
আরও কতজন ভুয়া পরিচয় নিয়ে রাজ্যে লুকিয়ে রয়েছে
আদালতে পেশ, ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন
মঙ্গলবার ধৃতকে আদালতে তোলা হয়েছে। পুলিশ তাঁর ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে।তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।





