মৃত ভোটার বিতর্কে চাপের মুখে নির্বাচন কমিশন, ফর্ম ৭ জমার সময়সীমা বাড়ল ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ রাজ্যে আসছে প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । আর ঠিক তার আগে দুই দিন ধরে বিক্ষোভ-অবস্থান ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার সময়সীমা বাড়াল নির্বাচন কমিশন। আগে যেখানে ১৫ জানুয়ারি ছিল শেষ দিন, সেখানে এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় ফর্ম ৭ জমার সময়সীমা বাড়িয়ে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আসে এমন এক সময়, যখন রাজ্য জুড়ে মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়।
বিজেপির অভিযোগ: ফর্ম ৭ জমা দিতেই দেওয়া হচ্ছে না
বিজেপি-র অভিযোগ, মৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে গেলে ফর্ম ৭ জমা দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বহু জায়গায় প্রশাসনের তরফ থেকে রিসিড কপি দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করে গেরুয়া শিবির। এই অভিযোগকে সামনে রেখেই বৃহস্পতিবার রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভে নামে বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মীরা। মালদায় বিজেপির বিধায়িকা শ্রীরুপা মিত্র ধর্নায় বসে।
উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা বিডিও অফিসের সামনে কয়েক হাজার ফর্ম ৭ জমা নেওয়া হলেও রিসিড না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই দাবিতেই বিডিও-র ঘরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ হয়। বাধ্য হয় পুলিশি হস্তক্ষেপের ।একই ছবি দেখা যায় বাঁকুড়া জেলাতেও। বিজেপির দাবি, ফর্ম জমা দিতে গেলে তৃণমূল-আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাধা দেয়।
নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা সংখ্যা ৪৮ থেকে বেড়ে ৮২ জানালেন মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারীক
তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ: ‘মৃত’ ভোটার হাজির সভায়
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দো পাধ্যায় । দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভা-মঞ্চে ‘মৃত’ ভোটারদের হাজির করে কমিশনের বিরুদ্ধে গরমিলের অভিযোগ তোলেন। তৃণমূলের বক্তব্য, পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
আলিপুরদুয়ারে গুরুতর অভিযোগ
সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠে আসে আলিপুরদুয়ার থেকে। আলিপুরদুয়ার ১ নম্বর ব্লকে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির তথ্য সম্বলিত নথি জমা দিতে গেলে বিএলএ-দের কাছ থেকে তা এআরও গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও চরম উত্তেজনা ছড়ায়।
মাঘেই ‘পালাই পালাই’ শীত! জানাল হাওয়া অফিস—কবে বিদায় নিচ্ছে ঠান্ডা ?
পরিস্থিতি সামাল দিতেই সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
দিনভর রাজ্যজুড়ে এই বিক্ষোভ, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পরেই নির্বাচন কমিশন সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা— এসআইআর প্রক্রিয়ায় মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারের নাম বাদ দিতে হলে ফর্ম ৭-ই একমাত্র বৈধ পথ, এবং সেই সুযোগ আরও চার দিন বাড়ানো হল।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা ঘিরে এই সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। এখন নজর ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত—এই সময়ের মধ্যে ফর্ম ৭ জমা ও যাচাই প্রক্রিয়া কতটা নির্বিঘ্নে হয়, তার দিকেই তাকিয়ে রাজ্য।





