অবশেষে গ্রেফতার রাজ্যের মাদক চক্রের ‘পাণ্ডা’ এনারুল শেখ, কলকাতা থেকে ধরে আনল মালদা পুলিশের বিশেষ দল
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ রাজ্যজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেল মালদা জেলা পুলিশ। অবশেষে গ্রেফতার হল রাজ্যের অন্যতম কুখ্যাত মাদক চক্রের কিং পিন এনারুল শেখ। কলকাতার এন্টালি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এনারুলকে গ্রেফতার করে মালদা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল।
এই অভিযানের কথা সাংবাদিক সম্মেলনে জানালেন মালদহ জেলার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের দাবি, উত্তর-পূর্বাঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত মাদক নেটওয়ার্ক চালানোর মূল মাথা ছিল এই এনারুল শেখ।
উত্তর-পূর্ব থেকে কাঁচামাল এনে বাংলায় ব্রাউন সুগারের জাল
পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে এনারুল শেখ দীর্ঘদিন ধরে উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্য—বিশেষ করে মনিপুর ও অসম—থেকে মাদক তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করত। সেই কাঁচামাল নিয়ে আসা হতো মালদার কালিয়াচক এলাকায়।
এরপর কালিয়াচকের কিছু যুবককে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাঁচামাল থেকে ব্রাউন সুগার তৈরির সম্পূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে তোলে এনারুলের চক্র। পুলিশের দাবি, এই প্রশিক্ষিত যুবকরাই রাজ্যের মাদক কারখানার মূল ভরসা হয়ে উঠেছিল।
আরও পড়ুন-মৃতদেহের মাংস খাওয়ার জন্যই খুন! দিনহাটায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের
দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল মাদক চক্র
তৈরি হওয়া ব্রাউন সুগার এজেন্টদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, বিহার, ঝাড়খণ্ড-সহ একাধিক রাজ্যে সক্রিয় ছিল এনারুলের নেটওয়ার্ক । এই নেটওয়ার্ক এতটাই বিস্তৃত ছিল যে, বিভিন্ন রাজ্যের মাদক বাজারে তার প্রভাব ছিল জড়ালো।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মাদক কারবার থেকে ইতিমধ্যেই হাজার কোটি টাকারও বেশি মুনাফা করেছে এনারুল শেখ। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ বিভিন্ন বেআইনি ও নকল ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
গ্রেফতার কাকা ভবলু ওরফে শওকত শেখ
এনারুলের পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছে তার কাকা ভবলু ওরফে শওকত শেখকে। পুলিশের মতে, চক্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল শওকতেরও। আর্থিক লেনদেন, কাঁচামাল জোগান এবং স্থানীয় যোগাযোগ রাখার মত কাজে দায়িত্বে ছিল সে।
কালিয়াচকে গ্যাং ওয়ার, প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগাযোগ
পুলিশের দাবি, কালিয়াচক এলাকায় একাধিক গ্যাং ওয়ারেও এনারুল ও তার দলবলের নাম জড়িয়েছে। মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখতে এই সংঘর্ষগুলি ঘটেছিল বলে অনুমান তদন্তকারী পুলিশ দের ।
এছাড়াও, সমাজের বিভিন্ন প্রভাবশালী অংশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল এনারুল। মাদক থেকে আসা টাকায় প্রমোটিং ব্যবসা, জমি ও অন্যান্য বিনিয়োগ করা হয়েছে বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ।
বাংলাদেশ যোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ
পুলিশ জানিয়েছে, এই মাদক চক্রের সঙ্গে বাংলাদেশি যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্ত পারাপারের কোনও লিংক ছিল কি না, আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইপ্যাকের বিরুদ্ধে জোড়া মামলা ইডির সুপ্রিম কোর্টে, মমতা, মনোজ ভার্মা রাজিব কুমার আরও কে?
আজ মালদা জেলা আদালতে পেশ, হেফাজতের আবেদন
ধৃত এনারুল শেখকে আজ মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশের তরফে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হলে ,তা মঞ্জুর হয়। তদন্তকারীদের আশা, হেফাজতে জেরা করলে মাদক চক্রের আরও বড় নাম, আর্থিক লেনদেন ও আন্তর্জাতিক যোগসূত্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসবে।
পুলিশের দাবি: রাজ্যে মাদকবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য
মালদা পুলিশের দাবি, এনারুল শেখকে গ্রেফতার করা রাজ্যে মাদকবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য। এই গ্রেফতারের মাধ্যমে রাজ্যের মাদক নেটওয়ার্কে বড়সড় ধাক্কা লাগবে বলেই মনে করছে পুলিশ প্রশাসন।





