রাজীব কুমারকে ঘিরে বিতর্ক, রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে
নিউজ বাজার ২৪ প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী কাল সোমবার ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। গণনার মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে রাজ্যজুড়ে সাজ সাজ রব, আতঙ্কে অনেকেই । তবে এবারের গণনা প্রক্রিয়া যে আর পাঁচটা বছরের মতো হবে না, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভোট গণনার লক্ষে রাজভবন থেকে নবান্ন—সর্বত্রই এখন পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনী। এর মধ্যেই রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার এবং অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষকদের (Counting Observers) নিয়োগ নিয়ে সরগরম রাজনৈতিক মহল।
১৬৫ জন অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক: কমিশনের মেগা প্ল্যান
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, প্রতিটি গণনা কেন্দ্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ১৬৫ জন অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক এবং ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হবে। মূলত যে সমস্ত কেন্দ্রে একাধিক ‘কাউন্টিং হল’ রয়েছে, সেখানে এই অতিরিক্ত আধিকারিকরা সরাসরি তদারকি করবেন। কোনোভাবেই যাতে গণনায় কারচুপি বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ না ওঠে, তাই এই পদক্ষেপ।
কমিশনের কড়া নির্দেশ:
মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: রিটার্নিং অফিসার এবং মূল পর্যবেক্ষক ছাড়া গণনাকেন্দ্রের ভেতরে কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।
QR কোড এন্ট্রি: শুধুমাত্র রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক ইস্যু করা QR কোড যুক্ত পরিচয়পত্র থাকলেই গণনাকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার মিলবে।
সরাসরি নজরদারি: প্রতিটি টেবিলের মাইক্রো-অবজার্ভাররা আলাদাভাবে ফলাফল রেকর্ড করবেন যাতে ক্রস-ভেরিফিকেশনে কোনো ভুল না হয়।.
আরও পড়ুন-‘ভারত কি ধনী হওয়ার আগেই বুড়ো হবে?’—বিশ্ব মিডিয়ার প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ২৬-এর বঙ্গভোট
রাজীব কুমার ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট
২০২৬-এর এই হাইভোল্টেজ নির্বাচনে রাজীব কুমারের ভূমিকা এবং প্রশাসনের ওপর কমিশনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধী শিবির বারবার সরব হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত রাজীব কুমারকে নিয়ে এর আগেও অনেক বিতর্ক হয়েছে। ৪ মে গণনার দিনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার গুরুদায়িত্ব যেমন পুলিশের ওপর রয়েছে, তেমনি কমিশন নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষকরাও প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখবেন। রাজনৈতিক গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, গণনার সময় যে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাজীব কুমারকে বিশেষ নির্দেশ দিতে পারে কমিশন।
৪ মে-র অগ্নিপরীক্ষা
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবারের জন্য নবান্ন দখল করবেন, নাকি বিরোধী শিবির কোনো বড় চমক দেবে—তার ভাগ্য এখন ইভিএম-এ বন্দি। পান্ডুয়া থেকে মালদহ, ঝাড়গ্রাম থেকে কলকাতা—গোটা রাজ্যের নজর এখন গণনাকেন্দ্রগুলোর দিকে। বিরোধীদের অভিযোগ এবং শাসকদলের আত্মবিশ্বাসের মাঝে নির্বাচন কমিশনের এই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয়, সেটাই দেখার। আর তার মধ্যে ২০২৬-এর এই হাইভোল্টেজ নির্বাচনে রাজীব কুমারের দায়িত্ব নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে ।





