দোলপূর্ণিমায় পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময়সূচি
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ আবিরে রাঙার প্রস্তুতি সর্বত্র। দোল বা হোলিকে ঘিরে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। কেউ পাহাড়ে, কেউ রাজবাড়ির শহরে— ছুটির মেজাজে ব্যাগ গোছানো প্রায় শেষ। এর মধ্যেই এবারের দোলপূর্ণিমায় পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের খবর কৌতূহল বাড়িয়েছে আকাশপ্রেমীদের।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের পশ্চিমাংশ ছাড়া অধিকাংশ জায়গা থেকেই গ্রহণ দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারত ও উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকা থেকে গ্রহণ তুলনামূলকভাবে ভালো দেখা যাবে বলে জানানো হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে Cooch Behar, Darjeeling এবং Siliguri।
তবে প্রশ্ন উঠছে— এই তিন জায়গা থেকে কি গ্রহণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে?
গ্রহণের সময়সূচি কী বলছে?
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে এবং শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিটে। পূর্ণগ্রাস পর্ব, অর্থাৎ চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা থাকবে বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিট থেকে ৫টা ৩৩ মিনিট পর্যন্ত।
কিন্তু উত্তরবঙ্গের এই তিন এলাকায় চাঁদ উঠবে বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে। অর্থাৎ পূর্ণগ্রাস পর্ব শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট পরেই চাঁদ দৃশ্যমান হবে দিগন্তে। এখানেই তৈরি হচ্ছে সংশয়।
আরও পড়ুন-‘কৃত্রিম সূর্য’ দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড, পারমাণবিক ফিউজনে ঐতিহাসিক সাফল্য চীনের
সূর্যাস্তের সময় নিয়ে দ্বিধা
ওইদিন উত্তরবঙ্গে সূর্যাস্তের সময় প্রায় সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিট। সূর্যাস্তের পরেও আকাশ পুরো অন্ধকার হতে সাধারণত ৩০-৪০ মিনিট সময় লাগে। ফলে গ্রহণের শেষাংশে আলো-আঁধারি পরিবেশে চাঁদ কতটা স্পষ্ট দেখা যাবে, তা নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একাংশ সন্দিহান।
এই প্রসঙ্গে Sky Watchers Association of North Bengal-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক Debashis Sarkar বলেন, “গ্রহণের একদম শেষ পর্বে কিছুটা দেখা যেতে পারে। তবে নাগাল্যান্ড বা অরুণাচল প্রদেশের মতো পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ উত্তরবঙ্গে পুরোপুরি দেখা যাবে না। সূর্যাস্তের সময়ই এর মূল কারণ।”
পর্যটকদের কৌতূহল
দোলের ছুটিতে অনেকে দার্জিলিংয়ের ম্যাল, কোচবিহারের রাজবাড়ি বা শিলিগুড়িকে গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। পাহাড়ি আকাশে বা ঐতিহাসিক প্রাসাদের পটভূমিতে গ্রহণ দেখার অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে অনন্য হতে পারে।
তবে জ্যোতির্বিদদের মতে, চাঁদ ওঠার সময় এবং আলো-আঁধারি পরিস্থিতির কারণে পূর্ণগ্রাসের দৃশ্য হয়তো পুরোপুরি ধরা নাও পড়তে পারে।
আবহাওয়ার ভূমিকা কতটা?
গ্রহণের সঙ্গে সরাসরি ঝড়-বৃষ্টির সম্পর্ক না থাকলেও অতীতে অনেক সময় দেখা গেছে, সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের দিন আকাশ মেঘে ঢেকে যায়। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসেও বৃষ্টির কারণে বহু জায়গায় গ্রহণ দেখা সম্ভব হয়নি।
উত্তরবঙ্গে সম্প্রতি আকাশে মেঘ এবং বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির নজির থাকায় দোলপূর্ণিমার দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে, তা নিয়েও কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।
এই বিষয়ে সিকিমের আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা Gopinath Raha জানান, শনিবার কিছু জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও পরবর্তী কয়েক দিনে তেমন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই।
পরের সুযোগ কবে?
যদি এবারের পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ উত্তরবঙ্গে স্পষ্টভাবে দেখা না যায়, তাহলে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সালের ৬ জুলাই পর্যন্ত। তবে সেটিও বর্ষাকালের সময়, ফলে তখনও আবহাওয়ার উপর অনেকটাই নির্ভর করবে দৃশ্যমানতা।
দোলের রঙে রাঙা দিনেই আকাশে এমন বিরল মহাজাগতিক ঘটনা— এই দ্বৈত আনন্দ ঘিরে কৌতূহল তুঙ্গে। এখন নজর আকাশে, আর অপেক্ষা শেষ মুহূর্তের পরিস্থিতির।





