দোল-হোলি ২০২৬: ‘হোলিকা দহন’ ঘিরে বাস্তু টিপস, সুখ-সমৃদ্ধির জন্য কী মানবেন?
নিউজ বাজার ডেক্স: হিন্দুদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব দোল বা হোলি। বসন্তের রঙে রঙিন এই উৎসব শুধু ভারতে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও নানা নামে পালিত হয়। উত্তর ভারত, পূর্ব ভারত ও নেপালের বহু অঞ্চলে হোলির আগের রাতে ঐতিহ্য মেনে জ্বালানো হয় পবিত্র অগ্নিকুণ্ড— যা ‘হোলিকা দহন’ নামে পরিচিত। বাংলায় একে বলা হয় ‘ন্যাড়া পোড়ানো’ বা ‘বুড়ির ঘর পোড়ানো’।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই অগ্নিকুণ্ড অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির আহ্বানের প্রতীক। অনেকেই মনে করেন, এই সময় কিছু বিশেষ নিয়ম মানলে সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। বিশেষত বাস্তুদোষ দূর করার ক্ষেত্রেও দোলের আগের দিনকে অত্যন্ত শুভ মনে করা হয়।
হোলিকা দহন ও বাস্তু বিশ্বাস
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, ঘরের শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হলে সংসারে অশান্তি, আর্থিক সমস্যা বা মানসিক চাপ বাড়তে পারে। তাই হোলিকা দহনের সময় কিছু আচার-অনুষ্ঠান পালন করলে নেতিবাচক শক্তি দূর হয় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন।
তবে মনে রাখা জরুরি, এগুলি ধর্মীয় ও লোকাচারভিত্তিক বিশ্বাস। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়, কিন্তু বহু মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই নিয়মগুলি মেনে চলেন।
আরও পড়ুন- ফেব্রুয়ারির শেষে চড়ছে পারদ, ২৮ তারিখে বৃষ্টি না রোদ? জানাল আবহাওয়া দফতর
দোল বা হোলির আগে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তু টিপস
১. ঘর পরিষ্কার রাখুন, বিশেষত উত্তর-পূর্ব কোণ
হোলির আগের দিন, অর্থাৎ ‘ন্যাড়া পোড়ানো’ বা ‘হোলিকা দহন’-এর দিন ঘরের প্রতিটি কোণ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব দিক (ঈশান কোণ) যেন একদম নোংরা না থাকে।
বাস্তুশাস্ত্রে বলা হয়, উত্তর-পূর্ব দিক দেবস্থান হিসেবে বিবেচিত। এই দিক পরিষ্কার ও খোলা রাখলে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং সংসারে সমৃদ্ধি আসে।
২. হোলিকার আগুনের পরিক্রমা
অনেক জায়গায় প্রচলিত আছে, হোলিকা দহনের আগুনের চারপাশে অন্তত সাতবার প্রদক্ষিণ (পরিক্রমা) করলে অশুভ শক্তি দূর হয়।
কিছু লোকাচারে বলা হয়, আগুনের সামান্য অংশ ঘরে এনে উত্তর-পূর্ব দিকে রাখা শুভ। তবে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে খোলা আগুন ঘরে না এনে প্রতীকীভাবে প্রদীপ জ্বালানোই নিরাপদ পদ্ধতি।
৩. কাঁচা গম অর্পণ ও পুরনো জিনিস সরানো
বিশ্বাস করা হয়, হোলিকা দহনের আগুনে কাঁচা গম অর্পণ করলে তা সংসারের অশুভ শক্তি দূর করতে সাহায্য করে।
একই সঙ্গে বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, ঘরে ভাঙা বা অপ্রয়োজনীয় পুরনো আসবাবপত্র জমিয়ে রাখা উচিত নয়। এগুলি নেতিবাচক শক্তির প্রতীক বলে মনে করা হয়। দোলের আগে ঘর গুছিয়ে পুরনো জিনিস সরিয়ে দিলে মানসিকভাবেও নতুন সূচনার অনুভূতি আসে।
দোলের আসল বার্তা
দোল বা হোলি শুধু রঙের উৎসব নয়, এটি শুভ শক্তির জয় ও অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক। প্রহ্লাদ ও হোলিকার পৌরাণিক কাহিনি আমাদের মনে করিয়ে দেয়— সত্য ও বিশ্বাসের শক্তি সবসময় বিজয়ী হয়।
বাস্তু টিপস মানা হোক বা না হোক, ঘর পরিষ্কার রাখা, মন পরিষ্কার রাখা এবং পারিবারিক বন্ধন মজবুত করা— এই উৎসবের আসল শিক্ষা এখানেই।
সব শেষে
হোলিকা দহনের রাতে আগুন জ্বালানো যেমন অশুভ শক্তির প্রতীকী বিনাশ, তেমনি নিজের জীবনের নেতিবাচকতা দূর করারও এক প্রতীক। ঘর পরিষ্কার, মন পরিষ্কার এবং ইতিবাচক চিন্তা— এই তিনেই আসতে পারে সুখ ও সমৃদ্ধি। দোলের রঙে রাঙিয়ে উঠুক আপনার সংসার, আসুক শান্তি ও আনন্দের নতুন সূচনা।





