সহমতির সম্পর্ক তিক্ত হলেই তা ধর্ষণ নয়! বড় রায় দিল্লি আদালতের, প্রমাণাভাবে বেকসুর খালাস অভিযুক্ত যুবক | News Bazar24
দীর্ঘ ৭ বছরের সম্পর্ক: প্রেমের বিচ্ছেদ কি তবে ধর্ষণ? প্রশ্ন তুলল আদালত
নিউজবাজার২৪ ডেস্ক, দিল্লি: দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন এক তরুণী। কিন্তু দীর্ঘ শুনানির পর দিল্লি আদালত অভিযুক্ত যুবককে সসম্মানে বেকসুর খালাস করে দিল। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, দুই প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের সহমতির শারীরিক সম্পর্ক যদি পরবর্তীতে তিক্ততার কারণে ভেঙে যায়, তবে তাকে কোনোভাবেই ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
মামলার প্রেক্ষাপট ও তরুণীর অভিযোগ
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, অভিযোগকারী তরুণী এবং অভিযুক্ত যুবক দীর্ঘ সাত বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। তরুণীর অভিযোগ ছিল, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই যুবক তাঁর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে যুবকটি বিয়ে করতে অস্বীকার করলে তরুণী থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। যুবকের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ (ধর্ষণ) ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: ‘সাফিশিয়েন্ট এভিডেন্স’ বা পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব
দিল্লির অতিরিক্ত দায়রা আদালত (Additional Sessions Court) এই মামলার রায় দিতে গিয়ে জানায়, তরুণী এবং যুবকের মধ্যে সম্পর্কটি ছিল সম্পূর্ণ সহমতির এবং দীর্ঘদিনের। প্রসিকিউশন পক্ষ এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ পেশ করতে পারেনি যা দিয়ে এটি প্রমাণিত হয় যে, প্রথম থেকেই যুবকের উদ্দেশ্য ছিল তরুণীকে ঠকানো বা কেবল যৌন লালসা মেটানোর জন্য বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া।
বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, “যদি দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত থাকেন এবং পরবর্তীতে কোনো কারণে সেই সম্পর্কে ফাটল ধরে বা বিয়ে না হয়, তবে আইনের চোখে তাকে ধর্ষণ বলা যায় না।
বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও শারীরিক সম্পর্কের পার্থক্য
আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস এবং দীর্ঘকালীন প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে না হওয়া—এই দুটির মধ্যে সূক্ষ্ম কিন্তু গভীর পার্থক্য রয়েছে। এই মামলায় তরুণী নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি স্বেচ্ছায় যুবকের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণে গিয়েছেন এবং একত্রে সময় কাটিয়েছেন। ফলে এখানে ‘জোরপূর্বক’ বা ‘ইচ্ছার বিরুদ্ধে’ কিছু হয়েছে বলে আদালত মনে করেনি।
কেন খালাস পেলেন অভিযুক্ত?
আদালত জানিয়েছে, তরুণীর বয়ানে বেশ কিছু অসংগতি রয়েছে। এছাড়া সাত বছরের দীর্ঘ সম্পর্কের পর হঠাৎ করে ধর্ষণের অভিযোগ তোলাটা আইনিভাবে ধোপে টেকে না। পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আদালত যুবককে সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস’ সংক্রান্ত একাধিক মামলার ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতগুলো যে অবস্থান নিচ্ছে, দিল্লির এই রায় সেই ধারাকেই আরও একবার স্পষ্ট করল।
আইন-আদালত এবং দেশ-বিদেশের টাটকা খবরের আপডেট পেতে প্রতিদিন চোখ রাখুন আমাদের পোর্টাল newsbazar24.com-এ।





