বারবার শুরু আর বন্ধ—কোচবিহার বিমান পরিষেবার চক্রব্যূহ
নিজস্ব প্রতিবেদন, কোচবিহার: বহু প্রতীক্ষার পর আবারও হতাশা। ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে বিমান পরিষেবা ফের চালু হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সপ্তাহ পেরিয়েও আকাশে দেখা মিলল না কোনো বিমানের। ফলে জেলার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা।
ফেব্রুয়ারির শুরুতে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার তরফে জানানো হয়েছিল, অন্তত সপ্তাহে একদিন কোচবিহার থেকে বিমান পরিষেবা চালু থাকবে। সেই ঘোষণার পর বহু মানুষ টিকিট কাটার প্রস্তুতিও নেন।
কিন্তু ১৯ ফেব্রুয়ারি ও ২৬ ফেব্রুয়ারি—দু’দিনই নির্ধারিত সময়ে কোনো বিমান অবতরণ করেনি। বিমানবন্দরের রানওয়ে ফাঁকাই পড়ে থাকে। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—ঘোষণা কি শুধুই কাগুজে আশ্বাস ছিল?
এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকারের UDAN প্রকল্পের আওতায় চলা ৯ আসনের ছোট বিমান পরিষেবাও বন্ধ হয়ে যায়। প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা দেখা গেলেও বাস্তবে পরিষেবা ফের শুরু হয়নি।
কী বলছে কর্তৃপক্ষ?
কোচবিহার বিমানবন্দর পরিচালনা করে Airports Authority of India (AAI)। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ৫ মার্চের পর থেকে নিয়মিত পরিষেবা চালুর একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল।
স্থানীয় আধিকারিক শুভাশিস পাল জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা ‘অপারেশনাল গ্রাউন্ড’-এর কিছু সমস্যার কথা জানিয়ে আপাতত পরিষেবা স্থগিত রেখেছে। তবে সমস্যার প্রকৃতি কী, কিংবা কবে তা মিটবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সময়সীমা দেওয়া হয়নি। এই অস্পষ্টতাই বাড়িয়ে দিচ্ছে ধোঁয়াশা।
আরও পড়ুন-কালিয়াচক থেকে মানিকচক:নজর এড়াতে এবার ‘জলপথ’ বেছে নিচ্ছে মাদক কারবারিরা! নদীর চরেই কি হাতবদল?
ইতিহাস যেন নিজেকেই পুনরাবৃত্তি করছে
কোচবিহারের বিমান পরিষেবার ইতিহাস দীর্ঘদিন ধরেই উত্থান-পতনে ভরা। রাজ আমলে এখান থেকে নিয়মিত বিমান চলাচল ছিল। পরে দীর্ঘ সময় পরিষেবা বন্ধ থাকে।
২০১১ সালের পর নতুন উদ্যোগে বিমান চলাচল শুরু হলেও ২০১৫ সালের মধ্যে তা আবার থমকে যায়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশিথ প্রামানিক–এর উদ্যোগে ফের পরিষেবা চালু হয়। কিন্তু বছর ঘুরতেই সেই পরিষেবাও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এবারও একই চিত্র—শুরু, আশ্বাস, তারপর হঠাৎ স্থবিরতা।
ব্যবসা ও পর্যটনে প্রভাব
কোচবিহার থেকে নিয়মিত বিমান চলাচল শুরু হলে ব্যবসায়ী মহল, পর্যটন শিল্প এবং সাধারণ যাত্রীদের বড় সুবিধা হতো। শিলিগুড়ি বা বাগডোগরা এয়ারপোর্ট পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার প্রয়োজন কমে যেত। বিশেষ করে পর্যটন সম্ভাবনাময় জেলা হিসেবে কোচবিহারের গুরুত্ব রয়েছে। রাজবাড়ি, ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও সীমান্তবর্তী ভৌগোলিক অবস্থান এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কিন্তু বিমান না নামায় হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে ব্যবসায়ী ও ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে।
এখন নজর ৫ মার্চের দিকে
বিমানবন্দর সূত্রের দাবি, মার্চের প্রথম সপ্তাহের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। তবে আগের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে অনেকেই এখন আর নিশ্চিত নন। প্রশ্ন একটাই—৫ মার্চের পর সত্যিই কি নিয়মিত ডানা মেলবে বিমান? নাকি রাজ আমলের ঐতিহ্যবাহী এই বিমানবন্দর আবারও অনিশ্চয়তার অন্ধকারেই ডুবে থাকবে? কোচবিহারের মানুষ এখন উত্তর খুঁজছে আকাশের দিকে তাকিয়ে।





