বিধানসভায় নিরাপত্তা নিয়ে মামলা: মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও নিয়মের ব্যতিক্রম নয়, পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ কলকাতা—পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অন্দরে নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে প্রবেশ সংক্রান্ত বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল Calcutta High Court। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী–র দায়ের করা মামলার শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্পষ্ট করে বলেন, বিধানসভার ভিতরে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নিয়মের ব্যতিক্রম হওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, স্পিকারের জারি করা নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি যেন সব বিধায়কের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হয়।
সোমবার মামলার শুনানিতে রাজ্যের অবস্থান তুলে ধরেন অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে প্রবেশ আদালত অবমাননার পর্যায়ে পড়ে না, কারণ মুখ্যমন্ত্রীর পদ একটি সাংবিধানিক পদ। তিনি আদালতে জানান, সংবিধান অনুযায়ী চারটি পদকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া হয়েছে—মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধানসভার অধ্যক্ষ, বিচারপতি এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল। তাঁর দাবি, এর বাইরে অন্য কেউ নিজেকে ওই সাংবিধানিক পদের সমতুল্য বলে দাবি করতে পারেন না।
আরও পড়ুন- বকেয়া ডিএ নিয়ে বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের, আপাতত ২৫ শতাংশ এরিয়া মেটানোর নির্দেশ রাজ্যকে
রাজ্যের এই যুক্তির প্রেক্ষিতে আদালত জানায়, তারা এই মামলার ভিতরে গিয়ে প্রশাসনিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তবে বিচারপতি অমৃতা সিনহার মন্তব্য, বিধানসভার অভ্যন্তরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম যদি জারি করা হয়ে থাকে, তা হলে তা সকলের ক্ষেত্রেই একভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার প্রশ্নেও নিয়মের ব্যতিক্রম যেন না হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত।
মামলার পটভূমি
বিধানসভার ভিতরে নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল স্পিকারের তরফে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও বিধায়ক নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বিধানসভায় ঢুকতে পারবেন না—এমনটাই জানানো হয়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, এই নির্দেশ জারি হওয়ার পরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বিধানসভার অন্দরে প্রবেশ করেন। তাঁর দাবি, এতে আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ লঙ্ঘিত হয়েছে এবং আদালত অবমাননার প্রশ্ন উঠছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। মামলার আগের এক শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ দিয়েছিলেন, বিধানসভার সচিব যেন নিশ্চিত করেন যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম সব বিধায়কের ক্ষেত্রেই সমানভাবে কার্যকর হয়। বিরোধী দলনেতার দাবি, সেই নির্দেশের পরেও মুখ্যমন্ত্রী নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেন, যা আদালতের নির্দেশ অমান্যের শামিল।
সোমবারের শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা একটি বিশেষ বিবেচনার বিষয় এবং তাঁর সাংবিধানিক পদমর্যাদার কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে আদালত এই যুক্তি সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ না করে স্পষ্ট করে দেয়, নিয়ম থাকলে তা সকলের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব
এই মামলাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে বিরোধীদের দাবি—বিধানসভায় সকলের জন্য এক নিয়ম কার্যকর হওয়া দরকার। অন্যদিকে রাজ্যের বক্তব্য—মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রশ্নে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া সাংবিধানিকভাবেই যুক্তিসঙ্গত। আদালতের পর্যবেক্ষণ এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
এখন নজর ২৭ এপ্রিলের পরবর্তী শুনানির দিকে। ওই দিন আদালত কী নির্দেশ দেয়, তার উপর নির্ভর করবে বিধানসভার অন্দরের নিরাপত্তা নীতিতে কোনও পরিবর্তন আসে কি না এবং এই মামলার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ।





