নিউজ বাজার২৪ | বিজ্ঞান ডেস্কঃ
বিজ্ঞানের দুনিয়ায় ফের একবার বড়সড় মাইলফলক স্পর্শ করল চীন। দেশটির পারমাণবিক ফিউশন গবেষণা প্রকল্প EAST (Experimental Advanced Superconducting Tokamak)—যাকে সাধারণভাবে ‘কৃত্রিম সূর্য’ বলা হয়—নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন ফেলেছে।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি EAST রিয়্যাক্টর টানা ১,০৬৬ সেকেন্ড, অর্থাৎ প্রায় ১৭ মিনিট ধরে সফলভাবে প্লাজমা স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে। এর আগে এই যন্ত্রই ৪০৩ সেকেন্ডের রেকর্ড গড়েছিল। নতুন পরীক্ষায় সেই রেকর্ড প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি সময় অতিক্রম করেছে।
কী এই প্লাজমা, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
প্লাজমা এমন একটি অবস্থা যেখানে গ্যাস অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত হয়ে ইলেকট্রন ছেড়ে আয়নিত অবস্থায় পরিণত হয়। সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের কেন্দ্রে ঠিক এই প্লাজমা অবস্থাতেই নিউক্লিয়ার ফিউশন ঘটে, যার মাধ্যমে বিপুল শক্তি উৎপন্ন হয়। বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরেই পৃথিবীতে সেই পরিবেশ কৃত্রিমভাবে তৈরি করার চেষ্টা করছেন।
ফিউশন রিয়্যাক্টরে দীর্ঘ সময় ধরে প্লাজমা স্থিতিশীল রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১,০৬৬ সেকেন্ড ধরে প্লাজমা নিয়ন্ত্রণে রাখা ফিউশন শক্তি গবেষণার ক্ষেত্রে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
চীনের দাবি কী?
চীনের বিজ্ঞানীদের দাবি, প্লাজমা নিয়ন্ত্রণ ও তাপ উৎপাদনের দক্ষতা বাড়াতে তারা একাধিক উন্নত নকশা ও আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করেছেন। EAST প্রকল্পটি চীনের একটি নির্দিষ্ট গবেষণা কেন্দ্রে সংরক্ষণ ও তদারকি করা হচ্ছে।
এই সাফল্যকে ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব, নির্গমনহীন ও প্রায় অসীম শক্তির উৎস হিসেবে নিউক্লিয়ার ফিউশন শক্তির পথে বড় অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে।
নীরব বিপর্যয়ের পথে পৃথিবী? ২০২৪ শেষে শুরু হওয়া লা নিনার প্রভাব ২০২৫–২৬ জুড়ে ভয় বাড়াচ্ছে
বিশ্বের আশা বাড়লেও প্রশ্ন রয়ে গেছে
বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই ফিউশন শক্তি নিয়ে গবেষণা চললেও এখনও বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়নি। তবুও চীনের এই সাফল্য আন্তর্জাতিক গবেষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে—একদিন হয়তো মানুষের হাতে সূর্যের মতো শক্তির উৎস থাকবে।
চীন শুধু EAST প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ নেই। অন্যান্য ফিউশন গবেষণাতেও তারা বড় বিনিয়োগ করছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই প্রযুক্তির উন্নয়নে অংশ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের শক্তির চাহিদা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফিউশন শক্তি হতে পারে অন্যতম কার্যকর সমাধান।
হিমালয়ে জমছে বিপজ্জনক চাপ, যেকোনও সময় বড় ভূমিকম্প !নতুন গবেষণা
বিতর্কও রয়েছে
তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন কিছু বিজ্ঞানী। তাঁদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে যদি এই প্রযুক্তি পূর্ণমাত্রায় কার্যকর করা হয়, তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল বা পরিবেশের উপর তার প্রভাব কী হবে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। বিশ্বের অন্যান্য শক্তিধর দেশ এই প্রযুক্তিকে কতটা গ্রহণ করবে, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।
যদিও চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই গবেষণা সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।



