উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ আরও মজবুত করতে বড়সড় পরিকল্পনা নিল ভারতীয় রেল। কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন নেক’ এলাকায় নতুন ভূগর্ভস্থ রেললাইন নির্মাণের প্রস্তাব সামনে এসেছে। তিনমাইল হাট থেকে রাঙ্গাপানি হয়ে বাগডোগরা পর্যন্ত বিস্তৃত এই সম্ভাব্য রেলপথ নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন ও বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপের পথে ভারতীয় রেল। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন নেক’ এলাকায় নতুন ভূগর্ভস্থ রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই নতুন লাইনটি তিনমাইল হাট থেকে রাঙ্গাপানি হয়ে বাগডোগরা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। সংকীর্ণ এই ভূখণ্ডই মূলত মূল ভূখণ্ড ভারতের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র স্থল সংযোগ।
আরও পড়ুন-ভারত মণ্ডপমে ১৬ ফেব্রুয়ারি ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট এক্সপো ২০২৬’ উদ্বোধন করবেন প্রধান মন্ত্রী
কেন এই ভূগর্ভস্থ রেললাইন?
কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য শিলিগুড়ি করিডোরে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করা।
এই করিডোরটি আন্তর্জাতিক সীমান্তঘেঁষা— নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের নিকটবর্তী হওয়ায় নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যানজট কিংবা নিরাপত্তাজনিত বিঘ্নের ঝুঁকি মাথায় রেখেই ভূগর্ভস্থ বিকল্প রুটের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কোথায় কোথায় বিস্তৃত হবে এই লাইন?
প্রস্তাবিত ভূগর্ভস্থ রেলপথটি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে-র কাটিহার বিভাগের অধীনে পড়বে।
মোট দৈর্ঘ্য: ৩৫.৭৬ কিলোমিটার (ডুমডাঙ্গি থেকে বাগডোগরা)
ডুমডাঙ্গি–রাঙ্গাপানি অংশ: ৩৩.৪০ কিলোমিটার
বিস্তৃতি: পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং ও উত্তর দিনাজপুর জেলার অংশ এবং বিহারের কিষাণগঞ্জ জেলার অংশ
প্রায় ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত সংকীর্ণ এই ভূখণ্ডের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে ভূগর্ভস্থ করিডোর।
কৌশলগত গুরুত্ব কতটা?
এই করিডোর দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা কর্মী, সামরিক সরঞ্জাম ও ত্রাণ সামগ্রী দ্রুত স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এই ভূগর্ভস্থ রেলপথ কার্যকর বিকল্প হবে।
এছাড়াও বাগডোগরা বিমানবন্দর এবং বেঙ্গডুবি সেনা ক্যান্টনমেন্টের নিকটবর্তী হওয়ায় বিমান-রেল সমন্বিত পরিবহনের সুবিধাও মিলবে।
আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত প্রকৌশল
প্রকল্পে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে—
✔️ ২×২৫ কেভি এসি বিদ্যুতায়ন ব্যবস্থা
✔️ ভিওআইপি-ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা (OFC ও কোয়াড কেবল)
✔️ স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং (স্ট্যান্ডার্ড-IV)
✔️ ২৫-টন অ্যাক্সেল লোড স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী নকশা
✔️ টানেল বোরিং মেশিন (TBM) ও NATM পদ্ধতিতে জোড়া টানেল নির্মাণ
জাতীয় স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদি সংযোগ
তিনমাইল হাট–রাঙ্গাপানি–বাগডোগরা ভূগর্ভস্থ রেলপথ কেবল একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার এক কৌশলগত উদ্যোগ।
জাতীয় স্বার্থে সমন্বিত ও সুরক্ষিত অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে এই প্রকল্প সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।





