‘ধর্ষণ’ সংজ্ঞা নিয়ে আদালতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ রায়পুর: ধর্ষণ সংক্রান্ত একটি ২০০৪ সালের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল ছত্তিশগড় হাই কোর্ট। আদালতের মন্তব্য—যদি যোনির উপর পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করা হয় বা সঙ্গম ছাড়াই বীর্যপাত ঘটে, তবে তা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য হবে না; বরং ৩৭৬ এবং ৫১১ ধারায় ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই পর্যবেক্ষণ প্রকাশ্যে আসতেই আইনমহল ও সমাজের নানা স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মামলার পটভূমি
মামলার অভিযোগ ছিল, নির্যাতিতা একা থাকার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে সঙ্গমের চেষ্টা করেন। ট্রায়াল কোর্ট অভিযুক্তকে ধর্ষণ ও অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়।
হাই কোর্টে আপিল ও আইনি যুক্তি
অভিযুক্তের আইনজীবী আপিলে যুক্তি দেন, মেডিক্যাল রিপোর্টে নির্যাতিতার সতীচ্ছদ অক্ষত থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি দাবি করা হয়, যোনিতে পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করা হলেও তা ভিতরে প্রবেশ করানো হয়নি। এই প্রেক্ষিতেই হাই কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে, সংশ্লিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে ৩৭৫ ধারার সংজ্ঞা প্রযোজ্য নয়; বরং ৩৭৬ (ধর্ষণের শাস্তি) ও ৫১১ (অপরাধের চেষ্টা) ধারায় ‘চেষ্টা’ হিসেবে ধরা হবে।
আরও পড়ুন- বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে সতর্কবার্তা সুপ্রিম কোর্টের, ‘অন্ধভাবে বিশ্বাস নয়’
আদালত অভিযুক্তকে ধর্ষণের চেষ্টার দায়ে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয়।
আইনি ব্যাখ্যা ও বিতর্ক
এই রায় সামনে আসার পর আইনজ্ঞদের একাংশের মত, আদালত মূলত ধারার ভাষ্য অনুযায়ী ‘প্রবেশ’ (penetration) সংক্রান্ত প্রশ্নে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তবে নারী অধিকারকর্মী ও কিছু বিশেষজ্ঞের দাবি, এমন ব্যাখ্যা নির্যাতনের অভিজ্ঞতা ও মানসিক আঘাতের গুরুত্বকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
ধর্ষণ সংক্রান্ত আইনের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে দেশে সময়সময়েই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলাগুলিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার। আইনি মহলের মতে, প্রতিটি মামলার নিজস্ব প্রমাণ ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই আদালত সিদ্ধান্ত নেয়।
(দ্রষ্টব্য: সংবেদনশীল বিষয়ের কারণে প্রতিবেদনে সংযত ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।)





