নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক , মালদা: পবিত্র রমজান মাসের আবহে চাঁচল মহকুমা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল এক সৌহার্দ্যপূর্ণ ইফতার মাহফিল। সপ্তম রোজার দিন, পশ্চিমবঙ্গ শ্রম দপ্তরের মালদহ জেলার চাঁচল মহকুমা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক আধিকারিক, কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরেন।
মহকুমা কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি ও পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের সদস্য এটিএম রফিকুল হোসেন, মহকুমা শাসক ঋত্বিক হাজরা, ডেপুটি লেবার কমিশনার নওশাদ আলী, পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা।
সূর্যাস্তের প্রাক্কালে সকলেই একসঙ্গে ইফতার করেন। খেজুর ও শরবত দিয়ে রোজা ভাঙার পর মিলিত প্রার্থনায় অংশ নেন উপস্থিতরা। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের আবহ।
আরও পড়ুন- কালিয়াচক থেকে মানিকচক:নজর এড়াতে এবার ‘জলপথ’ বেছে নিচ্ছে মাদক কারবারিরা! নদীর চরেই কি হাতবদল?
রমজানের শিক্ষা ও সম্প্রীতির বার্তা
ডেপুটি লেবার কমিশনার নওশাদ আলী তাঁর বক্তব্যে বলেন, রমজান শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি আত্মসংযম, ধৈর্য ও মানবিকতার এক অনন্য সাধনা। এই ইফতার মাহফিলের উদ্দেশ্য কেবল রোজা ভাঙা নয়, বরং সকলকে একত্রিত করে সামাজিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের মানুষ একসঙ্গে বসে ইফতার করলে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার মনোভাব আরও দৃঢ় হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন বলেন, রমজান আমাদের সংযম, সহনশীলতা ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। তিনি আরও জানান, মহকুমা ডেপুটি লেবার কমিশনার হিসেবে নওশাদ আলী দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য নিয়মিত ক্যাম্প ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু হয়েছে। ফলে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা দ্রুত শ্রমিকদের কাছে পৌঁছচ্ছে এবং তাঁদের পরিবারগুলির মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রশাসনিক ঐক্যের নজির
এই ইফতার মাহফিল শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছিল না; এটি প্রশাসনিক ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
চাঁচল মহকুমায় রমজানের পবিত্র আবহে আয়োজিত এই ইফতার সভা প্রমাণ করল, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মনোভাবই সমাজকে আরও সুসংহত করে তোলে। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে এমন মিলনমেলা প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্পর্ককে আরও মজবুত করে—এমনটাই মত উপস্থিতদের।





