কী অভিযোগ তৃণমূলের?
All India Trinamool Congress ‘কার্ড’-এর নামে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে। অন্যদিকে Bharatiya Janata Party এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক : লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই ময়দানে নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলো। ঠিক এই আবহেই সাধারণ মানুষকে বিশেষ সতর্কবার্তা দিল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন ‘কার্ড’ তৈরি করে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। এই বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষে একটি বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করে বলা হয়েছে, বিজেপির পাতা এই ফাঁদে যেন কোনোভাবেই পা না দেন বাংলার মানুষ।
ঠিক কী অভিযোগ তৃণমূলের?
তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির কর্মীরা সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন এবং বিভিন্ন সরকারি সুবিধা বা নতুন ‘কার্ড’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এই কাজের নাম করে তাঁরা ভোটারদের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং মোবাইল নম্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছেন। শাসকদলের আশঙ্কা, এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে নির্বাচনের সময় ভোটারদের বিভ্রান্ত করা হতে পারে অথবা ভোটার তালিকায় কারচুপি করার চেষ্টা করা হতে পারে।
আরও পড়ুন-মালদার জহুরা চণ্ডী মেলা: বর্গি আক্রমণ থেকে আজকের সম্প্রীতির নিদর্শন
বিজেপির ‘কার্ড’ রাজনীতি ও তৃণমূলের পালটা
তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি অতীতেও এনআরসি (NRC) বা সিএএ (CAA) নিয়ে মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এখন আবার কার্ডের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলার ছক কষছে তারা। ‘জাগো বাংলা’র প্রতিবেদনে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ থেকে শুরু করে অন্যান্য সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য কোনো তৃতীয় পক্ষ বা অন্য রাজনৈতিক দলকে তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকারি কাজ সরাসরি সরকারি ক্যাম্প বা আধিকারিকদের মাধ্যমেই হয়।
মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ
তৃণমূলের পক্ষ থেকে দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে সাধারণ মানুষকে এই বিষয়ে সচেতন করেন। কোনো অপরিচিত ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রতিনিধিকে ব্যক্তিগত নথির ফটোকপি বা তথ্য না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তৃণমূলের কথায়, “নিজের তথ্য সুরক্ষিত রাখুন, কারোর দেওয়া প্রলোভনে পা দেবেন না।”
বিজেপির প্রতিক্রিয়া
যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি তৃণমূলের অপপ্রচার। বিজেপি কেবল তাদের দলের কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে তৃণমূলের এই জোরালো সতর্কবার্তা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।



