কনের মায়ের সঙ্গে উধাও বরপক্ষের বাবা— বিয়ের ঠিক আগে এমন ঘটনাই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কানপুরে। সাজানো বিয়ের মঞ্চ, নিমন্ত্রণপত্র বিলি, অতিথিদের ভিড়— সবকিছুর মাঝেই আচমকা বদলে গেল সম্পর্কের সমীকরণ।
কনের মায়ের সঙ্গে উধাও বরপক্ষের বাবা— কীভাবে শুরু হয়েছিল ঘনিষ্ঠতা?
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ উত্তর প্রদেশের কানপুর শহর তখন সাজ সাজ রব। শীতের নরম রোদ, বাড়ির ছাদে রঙিন আলোর মালা, উঠোনে গাঁদা আর রজনীগন্ধার গন্ধ— সব মিলিয়ে একেবারে বিয়ের আবহ। পাত্র রাহুল শর্মা আর পাত্রী প্রিয়া সিংয়ের বিয়ে বলে কথা! দুই পরিবারই খুশিতে ডগমগ। আত্মীয়দের কোলাহল, হাসির রোল, মেহেন্দির নকশা— সব মিলিয়ে যেন সিনেমার দৃশ্য। কিন্তু ভালোবাসার গল্পে যে কখনও কখনও অদ্ভুত মোড় আসে, তা কে জানত!
প্রস্তুতির ফাঁকে ফাঁকেই জমেছিল আলাপ
রাহুলের বাবা অমিতাভ শর্মা আর প্রিয়ার মা সুনীতা সিং— দু’জনেই ভদ্র, মার্জিত, দায়িত্ববান মানুষ। বিয়ের কেনাকাটা, অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা, মেনু ঠিক করা— সব কিছুতেই দু’জনের দেখা-সাক্ষাৎ হচ্ছিল। একসঙ্গে বাজারে যাওয়া, গয়নার দোকানে আলোচনা, হলঘর দেখা— এইসব ছোট ছোট কাজের মধ্যেই নাকি জমে উঠেছিল আলাপ।
কেউ তখন বিশেষ কিছু খেয়াল করেননি। বরং সবাই বলেছিলেন, “দুই পরিবার এত সুন্দরভাবে মিশে যাচ্ছে, খুব ভালো লক্ষণ!” কে জানত, সেই ‘মিশে যাওয়া’-র মধ্যে একটু অন্যরকম রং মিশে যাচ্ছে!
আরও পড়ুন-নাম বাদ পড়েনি তো? চূড়ান্ত ভোটার তালিকা যাচাইয়ের নিয়ম জানাল নির্বাচন কমিশন
বিয়ের দু’দিন আগে চমক
বিয়ের দু’দিন আগে বাড়িতে ছিল ‘মেহেন্দি নাইট’। গান বাজছে, কাজিনরা নাচছে, প্রিয়ার হাতে রাহুলের নাম লেখা হচ্ছে। ঠিক সেই সময়েই খেয়াল হলো— সুনীতা দেবীকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে রাহুলের পরিবারও খুঁজে পাচ্ছে না অমিতাভবাবুকে।
প্রথমে ভেবেছিল সবাই— হয়তো কোথাও কাজে গেছেন। কিন্তু রাত বাড়লেও দু’জনের ফোন বন্ধ। সকালে খবর এল, দু’জনেই নাকি একসঙ্গে শহর ছেড়েছেন!
বাড়িতে তখন কেমন এক অদ্ভুত নীরবতা। আত্মীয়দের মুখে চাপা ফিসফাস— “এ আবার কেমন কাণ্ড!” কেউ অবাক, কেউ ক্ষুব্ধ, কেউ আবার বলছেন, “এই বয়সে প্রেম?”
প্রেম কি বয়স মানে?
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। কেউ বলছেন, “ভালোবাসা তো বয়স দেখে আসে না।” আবার কেউ একটু রসিকতা করে বলছেন, “ছেলে-মেয়ের বিয়ের অছিলায় নিজেরাই নতুন জীবন শুরু করতে বেরিয়ে গেলেন!”
যাই হোক, ঘটনাটা যতটা চমকপ্রদ, ততটাই সিনেমাটিক। যেন কোনও রোম্যান্টিক-কমেডি ছবির গল্প। দায়িত্ব, সামাজিকতা, বয়স— সব কিছুর মাঝেও যদি কারও মনে নতুন করে বসন্ত এসে যায়, তাকে কি আটকানো যায়?
রাহুল-প্রিয়ার পরিণত সিদ্ধান্ত
সবচেয়ে প্রশংসনীয় ছিল রাহুল আর প্রিয়ার ব্যবহার। প্রথম ধাক্কা কাটিয়ে দু’জনেই নাকি খুব শান্তভাবে পরিস্থিতি সামলান। প্রিয়া নাকি হেসেই বলেছিলেন, “আমাদের বিয়েটা একটু দেরি হল, কিন্তু গল্পটা তো ইতিহাসে থাকবে!”
রাহুলও বন্ধুদের বলেছেন, “জীবন মাঝে মাঝে চমক দেয়। আমরা সময় নিয়ে ঠিক করব কী করব।” তাঁদের এই পরিণত মনোভাব অনেকের মন জিতে নিয়েছে।
বিয়েটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে দুই তরুণ-তরুণী এখনও একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ভবিষ্যতে কী হবে, তা সময়ই বলবে।
সমাজের আয়নায় সম্পর্ক
এই ঘটনাকে ঘিরে অনেক প্রশ্ন উঠেছে— দায়িত্বের জায়গা কোথায়? পরিবার মানে কী? আবার একই সঙ্গে উঠেছে আরেকটি প্রশ্ন— মানুষের ব্যক্তিগত সুখের অধিকার কি বয়সের গণ্ডিতে বাঁধা?
মহিলাদের আড্ডায় এই গল্প এখন হালকা হাসির খোরাক। কেউ বলছেন, “শাশুড়ি-শ্বশুর হওয়ার আগে নিজেরাই প্রেমে পড়লেন!” কেউ আবার বলছেন, “জীবনটা একবারই তো, সুখ খুঁজতে দোষ কোথায়?”
গল্পের ভেতরে রস আছে, নাটক আছে, আবার একটু বিষাদও আছে। কিন্তু সব মিলিয়ে এটা জীবনেরই গল্প— যেখানে পরিকল্পনার বাইরে গিয়েও নতুন অধ্যায় লেখা হয়।
কানপুরে এখন কী অবস্থা?
শোনা যাচ্ছে, দুই পরিবারই ধীরে ধীরে পরিস্থিতি মেনে নিচ্ছেন। আত্মীয়রা বলছেন, “যা হয়েছে, হয়েছে। এখন সবার ভালো থাকাই আসল।” প্রিয়ার বন্ধুরা মজা করে বলছে, “তোর বিয়ের কার্ড আমরা রেখে দেব, একদিন আবার কাজে লাগবে!”
রাহুলের এক আত্মীয় তো হেসে বলেই ফেলেছেন, “এমন গল্প আমাদের পরিবারে আগে কখনও হয়নি। এখন থেকে পারিবারিক আড্ডায় এটা চিরকালীন টপিক!”
শেষকথা: জীবনের গল্প কখনও সোজা পথে হাঁটে না
যে মঞ্চে সানাই বাজবার কথা ছিল, সেখানে আপাতত নীরবতা। কিন্তু সেই নীরবতার মধ্যেও লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত সুর— জীবনের সুর। সম্পর্কের সমীকরণ কখনও কখনও এমনভাবে বদলে যায়, যা আমরা কল্পনাও করি না।
এই গল্পে হয়তো সামাজিক বিতর্ক আছে, কিন্তু আছে একফোঁটা রোম্যান্সও— যা বয়সের গণ্ডি মানেনি। আছে দুই তরুণ-তরুণীর ধৈর্য, আছে দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সাহসী সিদ্ধান্ত।
শেষমেশ বলা যায়, ভালোবাসা, দায়িত্ব আর সম্পর্ক— এদের পথ কখনও সোজা নয়। তবু জীবনের রঙিন ক্যানভাসে এমন গল্পই তো আমাদের হাসায়, অবাক করে, আবার ভাবতেও শেখায়।
কানপুরের সেই বিয়ের বাড়িতে আজ আর আলো নেই, কিন্তু গল্পটা থেকে গেছে— একটু রসে ভরা, একটু নাটকীয়, আর পুরোপুরি জীবন্ত।





