বাংলায় CM ফেস দেবে না বিজেপি, স্পষ্ট বার্তা
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক : ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি কি কোনো মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী (CM Face) ঘোষণা করবে? এই জল্পনার অবসান ঘটালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে কোনো নির্দিষ্ট নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরবে না বিজেপি। পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখ এবং তাঁর ‘বিকাশের এজেন্ডা’কে সামনে রেখেই নির্বাচনী ময়দানে নামবে গেরুয়া শিবির।
কেন মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নেই?
শমিক ভট্টাচার্য বলেন, হরিয়ানা, দিল্লি এবং ওড়িশার মতো রাজ্যগুলোতেও বিজেপি কোনো মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ছাড়াই লড়াই করে জয়ী হয়েছে। তাঁর মতে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং সংসদীয় বোর্ড। তাঁর কথায়, “যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের লড়াইয়ের মুখ হয়ে উঠবেন, তিনিই ভবিষ্যতে মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার হতে পারেন।”
শুভেন্দু অধিকারীর ওপর দ্বৈত দায়িত্ব
দলের রণকৌশল অনুযায়ী, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে এবার বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শমিকবাবু জানান, শুভেন্দু এবার ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম—দুই কেন্দ্র থেকেই লড়াই করতে পারেন। এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের গড়ে ঘিরে ফেলার একটি কৌশল। বিজেপি প্রমাণ করতে চায় যে, ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতার হার কোনো ‘কাকতালীয়’ ঘটনা ছিল না।
আরও পড়ুন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা ঢাকতেই কি মালদা নিয়ে বিভ্রান্তি? শাহকে পাল্টা তুলোধোনা সেলিমের
বিজেপির প্রধান ইস্যু: অনুপ্রবেশ ও উন্নয়ন
নির্বাচনী ইশতেহারের আঁচ দিয়ে শমিক ভট্টাচার্য জানান, অনুপ্রবেশ সমস্যাই হবে বিজেপির প্রধান হাতিয়ার। বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা, তাঁদের হেফাজতে নেওয়া এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (নির্বাসন) জন্য কঠোর নীতি গ্রহণ করা হবে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট:
রাষ্ট্রপতি শাসন: তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে শমিকবাবু জানান, বিজেপি নীতিগতভাবে রাষ্ট্রপতি শাসনের পক্ষপাতী নয়।
মুসলিম ভোটারদের প্রতি বার্তা: মুসলিমদের তোষণ ও ভোটব্যাংকের রাজনীতি ছেড়ে মূলধারার শিক্ষা ও উন্নয়নে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দুর্নীতির হিসাব: বিগত ৫ বছরে বাংলায় যে দুর্নীতি হয়েছে, ভোটের পর তার কড়ায়-গন্ডায় হিসাব নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে বিজেপির এই ‘নো সিএম ফেস’ কৌশল এবং মোদি-ম্যাজিকের ওপর ভরসা রাখা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।





