বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে সতর্কবার্তা সুপ্রিম কোর্টের, ‘অন্ধভাবে বিশ্বাস নয়’
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগে দায়ের হওয়া এক ধর্ষণ মামলার শুনানির সময় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল দেশের শীর্ষ আদালত। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানো প্রসঙ্গে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের মন্তব্য, বিবাহের আগে দুই ব্যক্তি কার্যত একে অপরের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিতই থাকেন, তাই এমন সম্পর্কে জড়ানোর আগে পরিস্থিতি, পরিণতি এবং আইনি দিক সম্পর্কে ভেবে দেখা উচিত।
কী এই মামলা?
অভিযোগকারিণী এক মহিলার দাবি, ২০২২ সালে একটি ম্যাট্রিমোনিয়াল ওয়েবসাইটে তাঁর সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। অভিযোগ, দিল্লিতে এবং পরে দুবাই সফরের সময় তাঁদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়।
মহিলার বক্তব্য, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই আশ্বাসেই তিনি সম্পর্কে জড়ান। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, ২০২৪ সালে অভিযুক্ত ব্যক্তি পঞ্জাবে অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করেছেন। বিষয়টি জানতে পেরে প্রশ্ন তোলায় তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগকারিণীর দাবি, তাঁদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও তাঁর অজান্তেই রেকর্ড করা হয়েছিল এবং পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হয়। আর এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়।
আরও পড়ুন-কনস্টেবল নিয়োগে বড় নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের, প্রকাশ করতে হবে লিখিত পরীক্ষার নম্বর
আদালতের পর্যবেক্ষণ কী?
বিচারপতি বিভা নাগারত্ন ও বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চ শুনানির সময় জানায়, প্রাথমিকভাবে যা সামনে এসেছে, তাতে সম্পর্কটি সহমতের ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছিল বলে প্রতীয়মান।
বিচারপতি নাগারত্ন বলেন, বিয়ের আগে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে পরস্পরের কাছে কার্যত অপরিচিত। তাই শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর আগে প্রত্যেকেরই সতর্ক থাকা উচিত। তিনি আরও মন্তব্য করেন, “আমরা হয়তো কিছুটা পুরনোপন্থী হতে পারি, কিন্তু বিয়ের আগে কাউকেই অন্ধভাবে বিশ্বাস করা উচিত নয়।”
আদালত ইঙ্গিত দেয়, যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সম্পর্ক সহমতের ভিত্তিতে হয়েছে, সেখানে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার আগে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা জরুরি।
সহমত বনাম প্রতারণা—আইনি জটিলতা
এই ধরনের মামলায় মূল প্রশ্ন দাঁড়ায়—বিয়ের প্রতিশ্রুতি কি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল, নাকি সম্পর্কটি দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্মতির ফল?
আইন অনুযায়ী, যদি প্রমাণ হয় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি শুরু থেকেই বিয়ে করার কোনও ইচ্ছা রাখতেন না এবং শুধুমাত্র শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাহলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে যদি সম্পর্কটি দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং পরে ব্যক্তিগত কারণে বিয়ে না হয়, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্নভাবে বিবেচিত হয়।
মিটমাটের ইঙ্গিত
আদালত অভিযুক্তের আইনজীবীকে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে পরামর্শ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, বিষয়টি মিটমাটের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা যেতে পারে।
মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে কয়েকদিন পর।
বৃহত্তর সামাজিক প্রেক্ষাপট
এই পর্যবেক্ষণকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে বিয়ের আগে সম্পর্ক, পারস্পরিক সম্মতি এবং আইনি দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। আধুনিক সম্পর্কের বাস্তবতা ও আইনি কাঠামোর মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে, তা নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
শীর্ষ আদালতের এই মন্তব্য স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলেও, তার আইনি ও সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।





