news bazar24, বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া:
যখন গোটা রাজ্য দীপাবলি ও কালীপুজোর আলোয় আলোকিত, তখন বাঁকুড়ার ঐতিহ্যবাহী শহর বিষ্ণুপুরের পাটরাপাড়ায় রক্ষিত পরিবারের আঙিনায় বাজে ঢাক–কাঁসরের ধ্বনি — কিন্তু সেটি কালী নয়, দেবী দুর্গার আরাধনা। প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই রক্ষিত পরিবারের দুর্গাপুজো পালিত হয় দীপান্বিতা অমাবস্যার দিনেই।
দীপাবলিতে নতুন রাজপ্রাসাদে গৃহপ্রবেশ রণবীর–আলিয়ার, কৃষ্ণ রাজ’-এ আলো উৎসব
পরিবারের ইতিহাস বলছে, বহু বছর আগে পরিবারের এক পূর্বপুরুষ রেশম গুটির ব্যবসায় পুরুলিয়া গিয়েছিলেন। একদিন গভীর জঙ্গলে বিশ্রাম নেওয়ার সময় তিনি স্বপ্নে দেবী দুর্গার দর্শন পান। দেবী তাঁকে নির্দেশ দেন বিষ্ণুপুরে ফিরে গিয়ে শিব, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশসহ সপরিবারে দুর্গামূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে। সেই স্বপ্নাদেশের ফলেই শুরু হয় রক্ষিত বাড়ির এই বিশেষ দুর্গাপুজো — যা আজও কালীপুজোর দিনেই অনুষ্ঠিত হয়।
এখানে দেবী দুর্গা অসুরদলনী রূপে নয়, বরং ঘরের মেয়ে উমা রূপে পূজিতা হন। চার দিন ধরে চলে এই পুজো। প্রথম দিনে রয়েছে চালকুমড়ো বলি প্রথা, যা এখনও অক্ষুণ্ণ। পরিবারের সদস্যরা বলেন, মা ঘরের মেয়ে বলেই ভাইফোটার পর মায়ের বিসর্জন দেওয়া হয় — কারণ তখনই মেয়েদের ঘরে ফেরার সময়।
ভূতচতুর্দশীতে কোন কোন ১৪ শাক খেতে হয় ? হিন্দু শাস্ত্র মতে কেন খেতে হয় এই শাক
এই সময় বিষ্ণুপুরের বাইরে পরিবারের কেউ থাকেন না। আত্মীয়স্বজন, প্রবাসী সদস্যরাও ঘরে ফেরেন, যেন মা উমার ঘরে ফেরার আনন্দে সামিল হতে পারেন। শারদীয় পুজোর মতোই এখানে ভোগ, আরতি, সন্ধিপুজো—সবই হয় অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও আবেগে।
রক্ষিত পরিবারের এই প্রাচীন দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় নয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও প্রতীক। দুই শতাব্দী পেরিয়েও এই প্রথা আজও দেখায় — ভক্তি, বিশ্বাস ও পারিবারিক বন্ধনের জোর কতটা গভীর হতে পারে।






