newsbazar24,মুর্শিদাবাদ: ভক্তি, ইতিহাস ও অলৌকিকতার মিলনে গড়ে ওঠা এক পীঠস্থান—বিষ্ণুপুর কালীবাড়ি। মুর্শিদাবাদের কাশিমবাজারের ঐতিহ্যবাহী এই মন্দির আজও ভক্তদের কাছে অপরিসীম বিশ্বাসের প্রতীক। জানা যায়, এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন লালগোলার রাজা যোগেন্দ্র নারায়ণ রায়। তখন থেকেই মা কালী এখানে চতুর্ভূজা রূপে পূজিতা হয়ে আসছেন।
একসময় এই স্থানটি ছিল এক মহাশ্মশান। কিন্তু আজ তা পরিণত হয়েছে আলোকোজ্জ্বল ভক্তির মন্দিরে, যেখানে কালীপুজোর রাতে আলো, ঢাক ও ধূপধুনোর গন্ধে ভরে ওঠে প্রাঙ্গণ।
স্থানীয় কিংবদন্তি অনুযায়ী, নবাব সারাফ রাজ খানের আমলে মহারাষ্ট্র থেকে আগত এক ব্রাহ্মণ কৃষ্ণচন্দ্র শর্মা (হোতা) নবাবের অধীনে কাজ করতেন। নিঃসন্তান কৃষ্ণচন্দ্র একদিন মাতৃস্বপ্নে নির্দেশ পান এখানেই স্থায়ী হতে। পরে তাঁর কন্যা করুণাময়ী জন্ম নেন।
কালীপুজোর দিনেই বিষ্ণুপুরে দুর্গাপুজো, দুই শতাব্দীর প্রাচীন রক্ষিত পরিবারের ঐতিহ্য
কিন্তু একদিন করুণাময়ী দুর্ঘটনাবশত নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়ে যান। অনেক খোঁজার পর দেখা যায়, নদীর জলে ভেসে রয়েছে দুটি হাত—যেন শাঁখাধারিণী দেবীর প্রতীক। মুহূর্তেই তা অদৃশ্য হয়ে যায়। শোকে বিধ্বস্ত কৃষ্ণচন্দ্র ধ্যানমগ্ন হলে বটগাছের কুঠুরিতে মা কালী তাঁকে দর্শন দিয়ে নির্দেশ দেন—এই স্থানেই তাঁর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে। সেই থেকেই শুরু হয় বিষ্ণুপুর কালীবাড়ির পূজা ও অলৌকিক ঐতিহ্য।
মানিকোড়া ডাকাত কালীপুজো: মশালের আলোয় আজও অটুট প্রাচীন রীতি
আজও পৌষ মাসের মঙ্গলবার ও শনিবারে বিশেষ পুজো অনুষ্ঠিত হয়। দূরদূরান্ত থেকে হাজার ভক্ত ভোর থেকে সারিবদ্ধ হয়ে মায়ের দর্শন নিতে আসেন। কালীপুজোর রাতে রাত ১১টা থেকে ভোর পর্যন্ত চলে মহাপুজো।
সেবায়েতদের কথায়:
“এ মন্দির শুধু পূজার স্থান নয়, এটি ভক্তির এক জীবন্ত প্রতীক—এখানে এলে মায়ের আশীর্বাদ অনুভব করা যায়।”






