news bazar24: হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলির মধ্যে ভাইফোঁটা বা যম দ্বিতীয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দীপাবলির দুই দিন পর পালিত এই উৎসব ভাইবোনের সম্পর্কের প্রতীক এবং একাধারে ধর্মীয় বিশ্বাস ও পৌরাণিক ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
এ বছর ভাইফোঁটা পালিত হবে ২৬ ও ২৭ অক্টোবর।
এই দিনে বোনেরা ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে তাঁর দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনায় যমরাজের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করেন। স্কন্দপুরাণে উল্লেখ আছে, এই দিনে যমরাজকে সন্তুষ্ট করলে উপাসক কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করেন।
ভাইফোঁটা ২০২৫: দিনক্ষণ, মন্ত্র ও পালন বিধি জানুন বিস্তারিতভাবে
যম-যমুনার পৌরাণিক কাহিনী
পুরাণ অনুসারে, সূর্যদেব ও ছায়ার সন্তান ছিলেন যমরাজ ও যমুনা। একসময় ছায়া সূর্যের তেজ সহ্য করতে না পেরে উত্তর মেরুতে গিয়ে বাস শুরু করেন। সেখানে জন্ম নেন শনিদেব।
পরে যমরাজ যমপুরীতে নিজ রাজ্য স্থাপন করেন, যেখানে পাপীদের বিচার দিতেন। অন্যদিকে যমুনা থাকতেন গোলোকধামে। ভাইবোনের মধ্যে গভীর স্নেহ ছিল, কিন্তু দেখা করার সুযোগ কমই হতো।
একদিন কার্তিক শুক্লপক্ষ দ্বিতীয়া তিথিতে যমুনা তাঁর ভাই যমরাজকে আহার করার জন্য বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও যমরাজ বোনের আহ্বান রাখেন। বোনের স্নান, পূজা ও স্নেহভরা আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে যমরাজ বলেন —
“যে ভাই এই দিনে নিজের বোনের বাড়িতে এসে আহার করবে, তার অকালমৃত্যু হবে না।”
সেই থেকেই এই তিথিটি ভাইফোঁটা বা যম দ্বিতীয়া নামে পরিচিত।
ভাইফোঁটার ধর্মীয় তাৎপর্য
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে যমুনায় স্নান করে যমরাজ ও যমুনার পূজা করলে সব দুঃখ দূর হয় এবং অকালমৃত্যু থেকে রক্ষা মেলে। যমুনা দেবীকে দেবী স্বরূপা হিসেবে মানা হয়, যিনি সমস্ত কষ্ট দূর করেন।
তাই এই দিনটি কেবল ভাইবোনের ভালোবাসার প্রতীক নয়, বরং ভক্তির, আশীর্বাদের ও ধর্মীয় শ্রদ্ধারও প্রতিফলন।
ভাইফোঁটা স্পেশাল রেসিপি: মটন নয়, এ বছর ট্রাই করুন লোভনীয় ইলিশ বিরিয়ানি






