নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক , কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মহারণ শুরু হয়ে গেল খাস কলকাতায়। বুধবার চৈত্রর প্রখর রোদ উপেক্ষা করেই রাজপথে নামল জনস্রোত। উপলক্ষ— নিজের ‘ঘরের মাঠ’ ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়নপত্র দাখিল। কালীঘাট থেকে আলিপুর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার রাস্তা এদিন কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল।
পায়ে হেঁটে জনসংযোগ, সঙ্গী অনুগামীদের ঢল
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, এদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট নাগাদ কালীঘাটের বাসভবন থেকে বের হন তৃণমূল সুপ্রিমো। পরনে চিরাচরিত সাদা শাড়ি আর হাওয়াই চটি— চেনা মেজাজেই পায়ে হেঁটে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ের দিকে রওনা দেন তিনি। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা অগণিত মানুষের অভিবাদন গ্রহণ করতে করতে এগোতে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। দলীয় পতাকা, ফেস্টুন আর স্লোগানে তখন গমগম করছে গোটা এলাকা।
উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ নেতৃত্ব ও পরিবার
এদিন মমতার এই মিছিলে আগাগোড়া দেখা গিয়েছে কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে। ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর ভ্রাতা স্বপন ও কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও স্থানীয় কাউন্সিলর এবং দলের উচ্চপদস্থ নেতারা এই পদযাত্রায় শামিল হন। জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাবক হিসেবে এদিন স্বাক্ষর করেন ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী ইসমত (রুবি) হাকিম।
আরও পড়ুন-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা ঢাকতেই কি মালদা নিয়ে বিভ্রান্তি? শাহকে পাল্টা তুলোধোনা সেলিমের
“ভবানীপুরই আমার ধর্ম-কর্ম”: মমতার আবেগঘন বার্তা
মনোনয়ন জমা দিয়ে বেরিয়ে আসার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বেশ আবেগপ্রবণ দেখায় তৃণমূল নেত্রীকে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সব লড়াইয়ের আঁতুড়ঘর এই কেন্দ্রটিই। মমতা বলেন,ভবানীপুর থেকে আমার সবকিছু শুরু। আমার ধর্ম, আমার কর্ম, আমার আন্দোলন— সবটাই এই মাটি থেকে। আমি ভবানীপুরবাসীকে আমার প্রণাম জানাই। শুধু এই কেন্দ্র নয়, রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই মানুষ যেন তৃণমূলকে জয়ী করেন, এটাই আমার প্রার্থনা।”
এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ
মনোনয়ন পর্ব মিটলেও ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ত্রুটি নিয়ে এদিনও উষ্মাপ্রকাশ করতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। সাধারণ মানুষের নাম যাতে বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে তিনি কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
লক্ষ্য নবান্ন: ঝোড়ো প্রচারের পথে দিদি
মনোনয়ন দাখিল কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া হলেও, আজকের ভিড় বুঝিয়ে দিল নির্বাচনী ময়দানে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ তৃণমূল শিবির। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কাজ শেষ করেই মুখ্যমন্ত্রী রওনা দেন তাঁর পরবর্তী নির্বাচনী সভাগুলোর উদ্দেশে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই বর্ণাঢ্য মিছিল দিয়ে কার্যত বিরোধী শিবিরকে নিজেদের শক্তির বার্তা দিয়ে রাখলেন তৃণমূল নেত্রী।
এখন দেখার, ছাব্বিশের এই লড়াইয়ে ভবানীপুরের ভূমিপুত্ররা তাঁদের ঘরের মেয়েকে কতটা দাক্ষিণ্য দেন। তবে আজকের ‘শো অফ স্ট্রেন্থ’ যে শাসক দলকে বাড়তি অক্সিজেন জোগাল, তা বলাই বাহুল্য।





