নিউজ বাজার ২৪ ডেস্কঃ বাংলাজুড়ে বইছে হিমেল উত্তুরে হাওয়া। গত কয়েকদিন ধরেই আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বারবার উঠে আসছে এই উত্তুরে হাওয়ার প্রসঙ্গ। কার্যত এই হাওয়াই এখন বাংলার শীতের মাইলেজ বাড়ানোর প্রধান ‘জ্বালানি’। প্রশ্ন উঠছে—হঠাৎ করে এমন তীব্র শীতের নেপথ্যে কারণ কী?
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এবছর শীতের আবহাওয়ার ‘নায়ক’ হয়ে উঠেছে একটি নিম্নচাপ। সাধারণত বর্ষাকালে এই নিম্নচাপই ডেকে আনে প্রবল বৃষ্টি ও দুর্যোগ। কিন্তু শীতের মরশুমে সেই নিম্নচাপই সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূমিকা নিয়েছে। বৃষ্টির বদলে বাংলায় উপহার দিচ্ছে মন ভালো করা ঠান্ডা আবহাওয়া।
সোমবার দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর একটি নতুন নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এই নিম্নচাপই কার্যত উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের স্থলভাগ থেকে ঠান্ডা বাতাস টেনে এনে বাংলার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফলস্বরূপ, উত্তুরে হাওয়ার গতি ও তীব্রতা দুটোই বেড়েছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে রাজ্যের তাপমাত্রায়। দিন যত যাচ্ছে, পারদ ততই নামছে।
দলীয় কর্মসূচিতে অভিষেকের মালদহে সভা ৮ই জানুয়ারী, প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন
মঙ্গলবার কলকাতা সাক্ষী থেকেছে প্রায় দেড় দশকের মধ্যে সবচেয়ে শীতল দিনের। ভেঙে গিয়েছে একাধিক পুরনো রেকর্ড। শুধু কলকাতা নয়, একই পরিস্থিতি উত্তরবঙ্গ ও গোটা দক্ষিণবঙ্গ জুড়েই। ঘরের বাইরে পা রাখলেই শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে হিমস্রোত। উত্তুরে হাওয়ার এই প্রবাহ আরও শক্তিশালী হচ্ছে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা নিম্নচাপের টানে। যেন গোটা দেশের স্থলভাগের ঠান্ডা বাতাস একসঙ্গে বাংলার দিকে ছুটে আসছে। তবে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—নিম্নচাপ মানেই তো বৃষ্টির সম্ভাবনা। তাহলে কি বাংলায় বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে? আবহবিদদের মতে, আপাতত সেই সম্ভাবনা নেই। কারণ নিম্নচাপটি বাংলা থেকে অনেকটাই দূরে অবস্থান করছে। ফলে রাজ্যের আবহাওয়ায় বৃষ্টির কোনও প্রভাব পড়বে না। বরং আগামী কয়েকদিন উত্তুরে হাওয়ার দাপট বজায় থাকবে বলেই পূর্বাভাস।
যদিও উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। সোমবার বিকেলেই আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গের নীচের দিকের কয়েকটি জেলায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পার্বত্য এলাকাগুলিতে তুষারপাতও হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে দার্জিলিং, কালিম্পং সংলগ্ন অঞ্চলে।
১ মিনিটে ভোটার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নম্বর লিঙ্ক করবেন যেভাবে, জানুন অনলাইন পদ্ধতি
এদিকে তাপমাত্রার নিরিখে মঙ্গলবার কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে কলকাতা। দমদমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আলিপুরে পারদ ছুঁয়েছে ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শ্রীনিকেতনে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৬.২ ডিগ্রিতে, বাঁকুড়ায় ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরবঙ্গের নীচের দিকের জেলা—জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারেও পারদ ৯ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করছে।
এর সঙ্গে বাড়তি সমস্যা তৈরি করছে ঘন কুয়াশা। সকাল গড়ালেও বহু জায়গায় কুয়াশার চাদর কাটছে না। দৃশ্যমানতা কম থাকায় রাস্তাঘাটে বাড়ছে সতর্কতা। আবহবিদদের মতে, কুয়াশার এই দাপটও আরও কয়েকদিন বজায় থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ ও উত্তুরে হাওয়ার যুগলবন্দিতেই এই মুহূর্তে শীতের আমেজে জমে উঠেছে বাংলা। আপাতত বৃষ্টি নয়, বরং শুষ্ক ও কনকনে ঠান্ডাই রাজ্যের আবহাওয়ার মূল চরিত্র হয়ে থাকবে—এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস।





