ভোটের ফলের আগে মিষ্টির বাজারে সবুজ-গেরুয়া দাপট
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক : কথায় বলে, বাঙালির ১২ মাসে ১৩ পার্বণ। আর এই প্রতিটি পার্বণের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো মিষ্টি। রস গোল্লা । কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন বাঙালির প্রিয় মিষ্টির দোকানেও এক অদ্ভুত বিভাজন রেখা টেনে দিয়েছে। ৪ মে ভোট গণনার দিন যত এগিয়ে আসছে, বাংলার মিষ্টির দোকানগুলোতে ততই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ‘সবুজ’ এবং ‘গেরুয়া’ মিষ্টির লড়াই। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কারিগররা এখন খদ্দেরের রাজনৈতিক পছন্দ অনুযায়ী মিষ্টির থালা সাজাতে ব্যস্ত।
মিষ্টির দোকানেও রাজনীতির ছোঁয়া
কলকাতার বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক থেকে শুরু করে জেলা স্তরের বহু নামী দোকান—সবখানেই এখন তাসের ঘরের মতো সাজানো রয়েছে ঘাসফুল এবং পদ্ম প্রতীকের সন্দেশ। কোনোটি সবুজ ক্ষীরের প্রলেপে ঢাকা, আবার কোনোটি কেশরী বা গেরুয়া রঙের আবরণে মোড়া। ময়রারা জানাচ্ছেন, এবার আর কেবল রসগোল্লা বা পান্তুয়ায় মন ভরছে না রাজনৈতিক কর্মীদের; তাঁদের চাই দলের প্রতীক ছাপানো কাস্টমাইজড মিষ্টি।
আরও পড়ুন- ব্যাগ খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ! সুন্দরবনে ১৭.৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার, ভোটের মুখে চাঞ্চল্য
দুই ভাগে বিভক্ত ক্রেতা ও অর্ডার
বাজার ঘুরে দেখা যাচ্ছে, মিষ্টির অর্ডার মূলত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে:
সবুজ ব্রিগেড: তৃণমূল পন্থী কর্মী-সমর্থকরা ইতিমধ্যেই কয়েক কুইন্টাল সবুজ রঙের ‘জলভরা’ বা ‘সন্দেশ’-এর অর্ডার দিয়ে রেখেছেন। তাঁদের দাবি, ৪ মে আবির খেলার পর মুখ মিষ্টি হবে সবুজ রসগোল্লাতেই। অনেকে আবার অর্ডার দিয়েছেন প্রতীক এর সবুজ সন্দেশ ।
গেরুয়া শিবির: পিছিয়ে নেই বিজেপি সমর্থকরাও। কেশর দিয়ে তৈরি গেরুয়া রঙের মিষ্টির চাহিদা তুঙ্গে। বিশেষ করে লাড্ডু এবং পদ্ম আঁকা বিশেষ সন্দেশ তৈরির জন্য রাত জেগে কাজ করছেন কারিগররা। উত্তর থেকে দক্ষিন সব জেলাতেই এই অর্ডার পড়ছে ।
দামের চেয়েও গুরুত্ব পাচ্ছে প্রতীক
মালদহ থেকে মেদিনীপুর—সব জায়গার মিষ্টি ব্যবসায়ীরাই এক সুরে বলছেন, “আগের চেয়ে এবার মিষ্টির উপকরণের দাম বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু উৎসবের আমেজে তা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না।” অনেকে আবার রসিকতা করে বলছেন, “এখন মিষ্টির স্বাদ গৌণ, খদ্দের আগে দেখছেন রঙ ঠিক আছে কি না!”
৪ মে-র মেগা লড়াই
গণনার দিন সকাল থেকেই জয়ের উল্লাসে মাতবে কোনো এক পক্ষ। সেদিন কার মিষ্টির হাঁড়ি আগে খালি হয়, সেটাই এখন দেখার। কোনো কোনো দোকানে আবার বাম ও কংগ্রেসের প্রতীক দেওয়া সাদা মিষ্টির অর্ডারও এসেছে সীমিত আকারে। সব মিলিয়ে, বাংলার বিধানসভা ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, বাংলার মিষ্টির ব্যবসায়ীদের জন্য এই নির্বাচন যে এক বড়সড় ‘লক্ষ্মীলাভ’ নিয়ে এসেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে রং এর মিষ্টি বেশি খাওয়া নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত ।




