নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক | ০২ ডিসেম্বর ২০২৫
আগামী বছর ১৫ বছরে পা দিতে চলেছে বাংলার মা–মাটি–মানুষের সরকার। তার আগেই রাজ্যের গত ১৪ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান সামনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ করলেন রাজ্য সরকারের ‘উন্নয়নের পাঁচালি’। তাঁর দাবি, “আজ বাংলা গোটা দেশের কাছে উন্নয়নের মডেল।”
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১৪ বছরে রাজ্যে ২ কোটিরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ১ কোটি ৭২ লক্ষ মানুষকে দারিদ্রসীমার বাইরে আনা হয়েছে, যা রাজ্যের উন্নয়নচিত্রে বড় মাইলস্টোন বলে দাবি করেছেন তিনি।
কর্মসংস্থান ও রাজস্বের উন্নতি
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান—
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে কর্মসংস্থান: রাজ্যে ১ কোটি ৩০ লক্ষের বেশি মানুষ এই খাতে যুক্ত।
মহিলা পরিচালিত ক্ষুদ্র শিল্পের সংখ্যা: দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ প্রথম।
রাজ্যে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২ লক্ষ।
কর আদায় ২০১১ সালের তুলনায় ৫.৩১ গুণ বৃদ্ধি।
কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে ৯.১৬ গুণ।
- মাধ্যমিক পরীক্ষা২০২৬ এর প্রস্তুতি সভায় পর্ষদ সভাপতি মালদহে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, রাজ্যে তৈরি হচ্ছে ৬টি অর্থনৈতিক করিডোর, যার ফলে আগামী দিনে আরও এক লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দেউচা পাচামীতেও প্রায় এক লক্ষ চাকরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কল্যাণমূলক প্রকল্পে অগ্রগতি
মুখ্যমন্ত্রী একের পর এক সফল সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরেন—
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার: ২ কোটি ২১ লক্ষ পরিবার
কন্যাশ্রী: ১ কোটি ছাত্রী
রূপশ্রী: ২২ লক্ষ কন্যার বিয়ে
স্বাস্থ্যসাথী সুবিধা: ২ কোটি ৪৫ লক্ষ পরিবার
আবাসন: ৬৭ লক্ষ ৬৯ হাজার বাড়ি নির্মাণ; মোট লক্ষ্য ১ কোটি বাড়ি
শিল্পক্ষেত্রে বৃদ্ধি
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলায় তৈরি হচ্ছে—
মেট্রো কোচ
লোকাল ট্রেনের কোচ
ভারী যন্ত্রপাতি
জাহাজ
এছাড়া ইস্পাত ও সিমেন্ট শিল্পেও নতুন বিনিয়োগ আসছে। গত দশ বছরে ৪২ লক্ষ যুবক-যুবতীকে স্কিল ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
“এই সাড়ে ১৪ বছরে আমাদের সরকার কী কী উন্নয়নমূলক কাজ করেছে, তা রাজ্যবাসীর কাছে তুলে ধরাই আমাদের দায়িত্ব। ‘উন্নয়নের পাঁচালি’-তে ভবিষ্যতে আরও কিছু তথ্য সংযোজন হবে। এরপর সেটি সংবাদমাধ্যমের হাতে তুলে দেওয়া হবে,”—বলেন মুখ্যমন্ত্রী।





