ন্যায্য দাবিতে রাজপথ দখল আশাকর্মীদের, পুলিশের আটক এড়াতে পোশাক বদলে মিছিলে—আন্দোলনে অনড় বার্তা
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ রাজপথে বেগুনি শাড়ি—আর তাতেই নাকি পুলিশি আটক! এমনই অভিযোগ তুলে সরব হলেন রাজ্যের আশাকর্মীরা। বুধবার স্বাস্থ্যভবন অভিযানে নেমে এই বেগুনি শাড়িই হয়ে উঠেছে আন্দোলনের প্রতীক, আর সেই কারণেই পুলিশের নজরে পড়ছেন তাঁরা—এমনটাই দাবি আন্দোলনকারীদের।
কেন বেগুনি শাড়ি?
আশাকর্মীদের সংগঠিত আন্দোলনে দীর্ঘদিন ধরেই বেগুনি শাড়ি তাঁদের পরিচয়চিহ্ন। মিছিল, অবস্থান, কর্মবিরতি—সব জায়গাতেই এই রং একজোট করে তাঁদের। ফলে অভিযোগ, পুলিশ বেগুনি শাড়ি দেখলেই বুঝে নিচ্ছে আন্দোলনকারী—আর সেখান থেকেই শুরু হচ্ছে আটক।
এক আন্দোলনকারীর কথায়, “আমাদের ড্রেসকোড দেখে-দেখেই তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে অনেকে সিভিল ড্রেসে আসছেন। আমরা অপরাধী নই, তবু লুকিয়ে আসতে হচ্ছে।”
আরও পড়ুন-আবহাওয়ার খবর ২১ জানুয়ারী | উত্তরবঙ্গ, কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে কুয়াশার সতর্কতা
পোশাক বদলেই কি সমাধান?
আটক এড়াতে কেউ কেউ শাড়ি বদলে, সিভিল পোশাকে র্যালিতে যোগ দিচ্ছেন—এমন ছবিও ধরা পড়েছে। কিন্তু তাতেও ক্ষোভ কমেনি। অভিযোগ উঠেছে, কোথাও কোথাও নাকি বাড়ি-বাড়ি গিয়েও আশাকর্মীদের তোলা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে যদিও এই অভিযোগে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
দাবি কী আশাকর্মীদের?
এই বেগুনি শাড়ির আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে দীর্ঘদিনের দাবি—
বর্তমানে ৫,২৫০ টাকা ভাতা বাড়িয়ে ন্যূনতম ১৫,০০০ টাকা
সরকারি কর্মীদের মতো সব ধরনের ছুটি
কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ
ইনসেন্টিভ প্রথা বন্ধ করে সব বকেয়া অবিলম্বে মেটানো
২৩ ডিসেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতি চলছে—দাবি না মানা পর্যন্ত অবস্থানেও অনড় তাঁরা।
আরও পড়ুন-মালদহে ফের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ, হবিবপুর থানার হাতে গ্রেফতার ৫
রাজনীতির রং, ভোটের হুঁশিয়ারি
একদিকে মন্ত্রীর বক্তব্যে ‘রাজনৈতিক ফাঁদে পা না দেওয়ার’ পরামর্শ, অন্যদিকে রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে টানাপোড়েন—এই দুইয়ের মাঝেই আশাকর্মীদের কড়া বার্তা:
“বেগুনি শাড়ি ধরলে, ২৬-এর বিধানসভায় দেখে নেব।”
অর্থাৎ, বেগুনি শাড়ি শুধু পোশাক নয়—এখন তা প্রতিবাদের রং। এই রং ধরেই যদি আটক হয়, তবে তার রাজনৈতিক জবাব ভোটবাক্সে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাই প্রশ্ন একটাই—বেগুনি শাড়িই কি আজ আন্দোলনের সবচেয়ে বড় পরিচয়, না কি সেটাই পুলিশের চোখে ‘টার্গেট’?
এদিকে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। তবে রাজনৈতিকভাবে কেউ ব্যবহার করতে চাইলে সেই ফাঁদে পা দেবেন না।” তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক স্বার্থে কারও কাছে চাঁদা দেওয়ার কথাও নাকি শুনেছেন—যদিও নিশ্চিত নন।
এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ আশাকর্মীরা পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ছাব্বিশের ভোটে দেখে নেব।” তাঁদের স্পষ্ট বার্তা—দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে পিছু হটার প্রশ্নই নেই। ফলে স্বাস্থ্যভবন অভিযান ঘিরে তৈরি হওয়া এই টানাপোড়েন রাজনীতির ময়দানেও নতুন মাত্রা যোগ করল।





