বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নবান্ন উৎসব: গ্রামীণ ঐতিহ্যের আবহে দুই দিন ধরে ‘নব ছন্দে নবান্ন’
— নিউজবাজার২৪ সংস্কৃতি ডেস্ক | ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, শুক্রবার
অগ্রহায়ণ মাস মানেই বাঙালির গ্রামীণ জীবনে নতুন ধান তোলার আনন্দ, পিঠাপুলির ঘ্রাণ আর মিলেমিশে খাওয়ার উৎসব। নবান্ন বাঙালির কৃষিভিত্তিক সংস্কৃতির অন্যতম প্রাচীন অনুষঙ্গ হলেও নগরজীবনের ব্যস্ততায় অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে এ ঐতিহ্য। সেই শিকড়কে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গত কয়েক বছর ধরেই নবান্ন উৎসব আয়োজন করে আসছে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘পদাতিক’।
এবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় দুই দিনব্যাপী উৎসব ‘নব ছন্দে নবান্ন’। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উৎসব শুরু হতেই ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয় রঙিন পোশাক, পিঠার সুগন্ধ, গানবাজনার সুর আর গ্রামীণ মোটিফে সাজানো স্টলের এক অনন্য পরিবেশ। পদাতিক সদস্যদের পরিবেশনায় পঞ্চকবির গান দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় কোরাস সংগীত, একক গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাট্যাংশ—যা চলে গভীর রাত পর্যন্ত।
মুক্তমঞ্চের সামনে সাজানো হয় ১৪টি স্টল, যেখানে ছিল চিতই, ভাপা, পাটিসাপটা, দুধ-চিড়া সহ নানা শীতের পিঠা, হাতে তৈরি চুড়ি ও গয়না, গ্রামীণ জীবনের নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী খাবার। পিঠার স্টলগুলোতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক–কর্মচারীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। শিশুস্মৃতিকে ছুঁয়ে দিতে উৎসবে যোগ করা হয় নাগরদোলা ও শিশুদের ট্রেন—যা বড়দের মধ্যেও বাড়তি উৎসাহ তৈরি করে।
বকফুল: ক্যান্সার প্রতিরোধ থেকে হজমে সাহায্য!গুণে অনন্য ফুল
উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, নবান্ন তাঁদের কাছে শুধু উৎসব নয়—গ্রামীণ শিকড়ে ফিরে যাওয়ার এক মানসিক প্রশান্তি। শিক্ষার্থী সুমাইয়া ইসলাম বলেন, “ক্লাস–পরীক্ষার ব্যস্ততার মাঝে এমন গ্রামীণ উৎসব মানসিক স্বস্তি দেয়। বছরজুড়ে আমরা এ দিনের জন্য অপেক্ষা করি।”
শেখ সুস্মিতা ও ইন্দ্রাণী বিশ্বাসের মতে, “নবান্ন আমাদের সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের অংশ। নগরজীবনে যা ফিকে হয়ে যাচ্ছে, পদাতিক সেই ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনে।”
আরেক শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন বলেন, “এ আয়োজন যেন প্রতিবছরই হয়। আমাদের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে এমন অনুষ্ঠান খুব দরকার।”
হিমালয়ে জমছে বিপজ্জনক চাপ, যেকোনও সময় বড় ভূমিকম্প !নতুন গবেষণা
পদাতিকের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আল আমিন জানান, নবান্ন শুধুই নতুন ধান বা পিঠার উৎসব নয়—এটি বাঙালির অস্তিত্ব ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক। তাঁর ভাষায়, “নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শিকড় ভুলতে দেওয়া যাবে না। নবান্ন মিলন, সম্প্রীতি ও ভাগাভাগির উৎসব। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের সম্পর্ককে গভীর করে এবং ইতিবাচক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেয়। আমরা চাই প্রতিবছর এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক।”
আজ শুক্রবার উৎসবের দ্বিতীয় ও শেষ দিন। দিনভর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সন্ধ্যায় পরিবেশনা থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রিয় ব্যান্ড বনসাই, ব্যাবিলন এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ব্যান্ড দলের।





