newsbazar24, তমলুক, পূর্ব মেদিনীপুর:
ইতিহাস, পুরাণ ও ভক্তির সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা এক প্রাচীন তীর্থ—দেবী বর্গভীমা মন্দির। প্রায় ৫০০০ বছরেরও পুরনো বলে বিশ্বাস এই শক্তিপীঠের বর্ণনা পাওয়া যায় মহাভারত, মার্কণ্ডেয় পুরাণ ও চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে। এখানেই দেবীর বাম পায়ের গোড়ালি পড়েছিল বলে উল্লেখ আছে পুরাণে, যা একে ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মহাভারতে উল্লিখিত তমলুকের প্রাচীন বর্গভীমা মন্দির
মন্দিরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী ভীমা কালী রূপে পূজিতা হন। কথিত আছে, সতীর দেহত্যাগের পর সুদর্শন চক্রে খণ্ডিত বাম পায়ের গোড়ালি এসে পড়ে তমলুকে। এখানেই রাজা তাম্রধ্বজ দেবীর নির্দেশে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।
কালীপুজোর দিনেই বিষ্ণুপুরে দুর্গাপুজো, দুই শতাব্দীর প্রাচীন রক্ষিত পরিবারের ঐতিহ্য
আরও একটি কিংবদন্তি প্রচলিত—ময়ূরবংশীয় তাম্রধ্বজ রাজার রাজ্যে এক ধীবরপত্নী প্রতিদিন রাজপ্রাসাদে জীবন্ত শোল মাছ দিতেন। একদিন রাজা প্রশ্ন করলে তিনি জানান, জঙ্গলের এক কূপের জল ছিটিয়ে মৃত মাছ জীবিত হয়। রাজা সেখানে গিয়ে আবিষ্কার করেন উগ্রতারা রূপী দেবী বর্গভীমাকে এবং মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।
ওড়িশি স্থাপত্যে নির্মিত এই দেউলের উচ্চতা প্রায় ৬০ ফুট, দেওয়ালে রয়েছে অসংখ্য টেরাকোটা কারুকাজ। মন্দিরের গর্ভগৃহে কালো পাথরের দেবীমূর্তি আজও ভক্তির কেন্দ্র।
স্বপ্নাদেশে মুসলিম মহিলার কালীপুজো, সম্প্রীতির নজির মালদহে
তথ্য অনুযায়ী, তমলুকের যেকোনো ক্লাব বা পারিবারিক কালীপুজো শুরু করার আগে দেবী বর্গভীমাকে পুজো দিয়ে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। দীপান্বিতা অমাবস্যায় দেবী রাজরাজেশ্বরী রূপে পূজিতা হন। সন্ধ্যা নামলেই শহরের অলিগলি ভরে ওঠে শোভাযাত্রা, ঢাকের শব্দ ও প্রদীপের আলোয়—যেন দেবী স্বয়ং আশীর্বাদ বর্ষণ করছেন তমলুকবাসীর ওপর।






