অ্যাকাউন্ট নম্বর না বদলেই বদলাবে ব্যাঙ্ক, বড় সিদ্ধান্ত RBI-এর
একই নম্বরে নতুন ব্যাঙ্ক, আসছে অ্যাকাউন্ট পোর্টেবিলিটি
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক: মোবাইল সিম কার্ডের পরিষেবা পছন্দ না হলে আমরা সহজেই ‘নাম্বার পোর্টেবিলিটি’ (MNP) ব্যবহার করে অন্য কোম্পানিতে চলে যাই। এবার ঠিক একই সুবিধা আসতে চলেছে ব্যাঙ্কিং পরিষেবাতেও। আপনার বর্তমান ব্যাঙ্কের পরিষেবা নিয়ে আপনি কি সন্তুষ্ট নন? বারবার হিডেন চার্জ বা খারাপ ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন? খুব শীঘ্রই আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর অপরিবর্তিত রেখেই এক ব্যাঙ্ক থেকে অন্য ব্যাঙ্কে সুইচ করতে পারবেন। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) নিয়ে আসছে ঐতিহাসিক ‘ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পোর্টেবিলিটি’।
কী এই ‘ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পোর্টেবিলিটি’?
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ‘পেমেন্টস ভিশন ২০২৮’ (Payments Vision 2028)-এর অধীনে এই বিশেষ ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের পুরনো অ্যাকাউন্ট নম্বর বজায় রেখেই অন্য ব্যাঙ্কের গ্রাহক হতে পারবেন। বর্তমানে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে নতুন ব্যাঙ্কে যেতে গেলে দীর্ঘমেয়াদী এবং জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। নতুন অ্যাকাউন্ট নম্বর মানেই স্যালারি অ্যাকাউন্ট, ইনভেস্টমেন্ট, বিমা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে নতুন করে তথ্য আপডেট করার ঝামেলা। এই ঝক্কি এড়াতেই এবার ‘ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর’-এর ধারণা আনছে আরবিআই।
PaSS সিস্টেম: নেপথ্যের আসল প্রযুক্তি
এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে সহজ এবং নিরবচ্ছিন্ন করতে ব্যাক-এন্ডে কাজ করবে একটি বিশেষ সেন্ট্রাল সিস্টেম, যার নাম ‘পেমেন্টস সুইচিং সার্ভিস’ (PaSS)। এই সিস্টেমের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি দেশের সব ব্যাঙ্ককে একটি অভিন্ন নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসবে।
এর ফলে গ্রাহক যখন ব্যাঙ্ক পরিবর্তন করবেন, তখন তাঁর পুরনো ব্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত অটো-ডেবিট (Auto-debits) এবং ম্যানডেট (যেমন হোম লোনের EMI, মিউচুয়াল ফান্ডের SIP বা ইলেকট্রিক বিলের পেমেন্ট) স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ব্যাঙ্কে স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। গ্রাহককে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি সংস্থায় গিয়ে নতুন করে ফর্ম পূরণ বা অ্যাকাউন্ট নম্বর আপডেট করতে হবে না।
আরও পড়ুন-গ্রিন এনার্জিতে চলবে ডেটা সেন্টার! বড় পদক্ষেপ এনটিপিসি ও এয়ারটেলের
কেন এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত?
আরবিআই-এর এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের ব্যাঙ্কের একাধিপত্য এবং খারাপ পরিষেবা থেকে মুক্তি দেওয়া। বর্তমানে অনেক গ্রাহক ব্যাঙ্কের নিম্নমানের ডিজিটাল পরিষেবা বা অতিরিক্ত চার্জের কারণে বিরক্ত থাকলেও, অ্যাকাউন্ট নম্বর বদলে যাওয়ার ভয়ে ওই ব্যাঙ্কেই থেকে যান। অ্যাকাউন্ট পোর্টেবিলিটি চালু হলে: ১. পরিষেবার মান বাড়বে: গ্রাহক হারানোর ভয়ে ব্যাঙ্কগুলো তাদের পরিষেবার মান বাড়াতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বাধ্য হবে। ২. লুকানো খরচ (Hidden Charges) কমবে: প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে ব্যাঙ্কগুলোকে চার্জের ক্ষেত্রে আরও বেশি সংবেদনশীল হতে হবে। ৩. গ্রাহকের স্বাধীনতা: ব্যাঙ্কিং সেক্টরে গ্রাহকই হবে আসল রাজা। পছন্দ না হলেই সিম কার্ডের মতো দ্রুত ব্যাঙ্ক বদলানো যাবে।
সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধা কোথায়?
ভারত ডিজিটাল লেনদেনে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পোর্টেবিলিটি চালু হলে সাধারণ মানুষের সময় ও পরিশ্রম দুই বাঁচবে। বিশেষ করে যারা কর্মক্ষেত্রে বদলি হন বা এক শহর থেকে অন্য শহরে যান, তাদের জন্য এটি আশীর্বাদস্বরূপ। আপনার সমস্ত সঞ্চয় এবং কেওয়াইসি (KYC) তথ্য একই থাকবে, শুধু ব্যাঙ্কের ব্র্যান্ডটি বদলে যাবে।
এক কথায় –
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই ‘পেমেন্টস ভিশন ২০২৮’ বাস্তবায়িত হলে ভারতের ব্যাঙ্কিং ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হবে। ২০২৮ সালের মধ্যে এই ব্যবস্থা পুরোদমে চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষমতায়ন ঘটবে এবং ব্যাঙ্কিং সেক্টরে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।
নিউজ ডেস্ক, টেক ও অর্থনীতি বিভাগ।
আপনার বর্তমান ব্যাঙ্কের পরিষেবা নিয়ে আপনি কি খুশি? নাকি পোর্টেবিলিটি এলে আপনিও ব্যাঙ্ক বদলাবেন? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।





