নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ ২০২৪ সালের অগস্টে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়। গণ-অভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতা ছাড়তে হয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ৮ অগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সরকারের নেতৃত্বে আসেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনূস।
দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব সামলানোর পর শেষ হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ। নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি সম্পন্ন। শেষ কর্মদিবসে বিভিন্ন মন্ত্রকে ছিল বিদায়ী আবহ। বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদে সদস্যসংখ্যা ২১। প্রধান উপদেষ্টার পাশাপাশি বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদও ছিল এই কাঠামোয়।
এখন প্রশ্ন—সরকারি দায়িত্ব শেষের পর কে কোথায় ফিরছেন?
প্রধান উপদেষ্টা: আগের কাজেই ফেরা
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা জল্পনা ছিল, মেয়াদ শেষে প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হতে পারেন। যদিও নিজেই স্পষ্ট করেছিলেন, সরকারি দায়িত্ব শেষ হলেই তিনি আগের কর্মক্ষেত্রে ফিরবেন। সামাজিক ব্যবসা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও মানবকল্যাণমূলক উদ্যোগ—এই ক্ষেত্রেই তাঁর সক্রিয়তা বাড়তে পারে বলে ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন- আওয়ামী লীগ ছাড়া বাংলাদেশে নির্বাচন, ‘প্রহসন’ বলে ভোট বয়কটের ডাক সজীব ওয়াজেদ জয়ের
অর্থ উপদেষ্টা: আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, দায়িত্ব শেষের পর তিনি আবার শিক্ষাজগতে ফিরবেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর আগের দায়িত্বে ফেরার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। কিছুদিন বিশ্রামের পর মার্চ মাস থেকেই নতুনভাবে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আইন উপদেষ্টা: শিক্ষকতা ও গবেষণায় প্রত্যাবর্তন
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। অন্তর্বর্তী দায়িত্ব শেষ করে তিনি ফের শিক্ষকতা, গবেষণা ও লেখালেখিতে মন দেবেন। সাংবিধানিক ও আইনি সংস্কার নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা: লেখালেখিতে মনোনিবেশ
মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, আপাতত কিছুদিন বিশ্রাম নেবেন। তারপর আবার লেখালেখি ও নীতিনির্ধারণমূলক আলোচনায় সক্রিয় হতে চান।
খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা: সমাজ-সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমে ফেরা
আলি ইমাম মজুমদার সরকারি দায়িত্ব শেষ করে পুনরায় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবেন। উপদেষ্টা হওয়ার আগে তিনি নিয়মিত কলাম লিখতেন—সেই ধারাতেই ফিরবেন বলে জানিয়েছেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা: রমজানের পর নতুন সূচনা
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, দায়িত্ব শেষের পরপরই শুরু হবে রমজান মাস। তাই আপাতত ধর্মীয় অনুশীলন ও ব্যক্তিগত সময় কাটাবেন। রমজানের পর আবার বইপড়া ও লেখালেখিতে সক্রিয় হবেন।
সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতেন তিনি। দায়িত্ব শেষের সঙ্গে সঙ্গেই সেই গাড়ি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ব্যক্তিগত প্রয়োজনেই নতুন গাড়ি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবেশ উপদেষ্টা: আইনি লড়াইয়ে প্রত্যাবর্তন
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, দায়িত্ব শেষে তিনি আবার বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির কাজে সক্রিয় হবেন। পরিবেশ ও জলবায়ু ন্যায়ের প্রশ্নে আগের মতোই কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা: লেখালেখি ও মানবাধিকার আন্দোলনে ফেরা
শারমীন এস মুরশিদ শেষ কর্মদিবসেই অফিসিয়াল দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন। কিছুদিন নিরিবিলিতে কাটিয়ে উপদেষ্টা হিসেবে পাওয়া অভিজ্ঞতা নিয়ে বই লেখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মানবাধিকার ও নারী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ইচ্ছাও জানিয়েছেন তিনি।
পালাবদলের প্রহর
দেড় বছরের অন্তর্বর্তী অধ্যায় শেষ করে বাংলাদেশ এখন নির্বাচিত সরকারের পথে। প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে গেলেও উপদেষ্টাদের অধিকাংশই ফিরছেন শিক্ষা, গবেষণা, সমাজসেবা ও নীতিচর্চার মঞ্চে।রাজনীতির মঞ্চ বদলালেও সক্রিয়তা থাকছে—শুধু ভিন্ন ভূমিকায়। আপনি চাইলে এটার জন্য একটি Google Discover-friendly শিরোনাম ও সাবহেডও তৈরি করে দিতে পারি।





