ভারত-বাংলাদেশ জ্বালানি সহযোগিতার গুরুত্ব
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং ডলার সংকটের কারণে বাংলাদেশ যখন এক গভীর অন্ধকারের দিকে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই কান্ডারি হিসেবে আবির্ভূত হলেন শেখ হাসিনা। দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং কৃষি-শিল্পে প্রাণ ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক স্তরে সফল আলোচনা এখন বাংলাদেশকে এক বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে চলেছে।
কেন এই সংকট তৈরি হয়েছিল ?
বিগত কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির টানাপোড়েন এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির আকাশছোঁয়া দামের প্রভাব পড়েছিল বাংলাদেশের ওপর। একদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ, অন্যদিকে জ্বালানি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় এলসি (LC) খুলতে সমস্যা—সব মিলিয়ে দেশের একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে গিয়েছিল। ফলে রাজধানী থেকে শুরু করে প্রান্তিক গ্রাম পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে ভোগ করতে হচ্ছিল তীব্র লোডশেডিং। বিশেষ করে সেচ মৌসুমে কৃষকদের দুশ্চিন্তা ছিল চরমে।
আরও পড়ুন-৭ টাকার ডিম ৩.৫ টাকায়!রপ্তানি বন্ধে স্থানীয় বাজারে ধস, দিশেহারা ভারতের ‘এগ সিটি’
সংকট মেটাতে শেখ হাসিনার ‘মাস্টারপ্ল্যান’
এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেবল নির্দেশের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি হস্তক্ষেপে নামেন। আজকের প্রতিবেদনে উঠে আসা তাঁর সাফল্যের মূল চাবিকাঠিগুলো হলো:
সাশ্রয়ী মূল্যের জ্বালানি নিশ্চিত করা: কেবলমাত্র একটি বা দুটি দেশের ওপর নির্ভর না করে ভারত, রাশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে জি-টু-জি (G2G) ভিত্তিতে সরাসরি জ্বালানি আমদানির চুক্তি নিশ্চিত করেছেন তিনি। এর ফলে কম দামে তেল পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে।
জরুরি এলসি খোলার সমাধান: জ্বালানি আমদানিতে যেন কোনোভাবেই ডলারের অভাব না হয়, সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশেষ ‘প্রাইওরিটি চ্যানেল’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এখন থেকে জ্বালানি আমদানিকারকদের এলসি খুলতে আর কোনো বাড়তি বাধার মুখে পড়তে হবে না।
আঞ্চলিক পাইপলাইনের গুরুত্ব: ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে দ্রুত ডিজেল সরবরাহ এবং আদানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ আনা নিশ্চিত করতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করছেন।
কৃষি ও কলকারখানায় স্বস্তি
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো কৃষি ও পোশাক শিল্প। ডিজেল ও বিদ্যুতের অভাবে এই দুই ক্ষেত্রই থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর এই দ্রুত পদক্ষেপের ফলে সেচ মৌসুমে কৃষকরা এখন নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহের নিশ্চয়তা পাচ্ছেন। অন্যদিকে, শিল্পাঞ্চলেও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এলএনজি (LNG) আমদানির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক মহলে নেতৃত্বের প্রশংসা
প্রতিকূল বিশ্ব পরিস্থিতির মধ্যেও যেভাবে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রেখেছেন, তা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তাঁর এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে সম্ভাব্য ধস থেকে রক্ষা করবে।





