নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক ঃ বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে রাজ্য জমি দিচ্ছে না—এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার সেই ইস্যুতেই বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কেন্দ্র যে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার জমির জন্য টাকা দিয়ে দিয়েছে, সেই জমি ৩১ মার্চের মধ্যে কেন্দ্রের হাতে তুলে দিতে হবে বলে সময়সীমা বেঁধে দিল আদালত।
মঙ্গলবার মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথী সেন–এর ডিভিশন বেঞ্চে। প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “রাজ্য কেন নিজস্ব অধিকার বলে জমি অধিগ্রহণ করছে না? জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ২০১৩ সালের আইনের ৪০ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা হবে না কেন?”
বিচারপতি পার্থসারথী সেনও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক সীমানার অংশীদার হয়েও রাজ্যের নিজে থেকে উদ্যোগ না নেওয়া আশ্চর্যের।
আরও পড়ুন- আদালতের নথিতে যৌন হেনস্তার নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ নয়: দিল্লি পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিল্লি হাই কোর্টের
আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ
টাকা দেওয়া ও অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও জমি হস্তান্তর হয়নি—এমন জমি দ্রুত হস্তান্তর করতে হবে।
SIR প্রক্রিয়ার অজুহাত এই ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়।
জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে জরুরি ভিত্তিতে অধিগ্রহণ সম্ভব কি না, তা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের হলফনামা চেয়েছে আদালত।
২ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানি।
শুনানিতে কী বলা হল
অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল জানান, জাতীয় নিরাপত্তা জড়িত থাকলে জেলা কালেক্টর সরাসরি আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
মামলাকারীর পক্ষ জানায়, ২০১৩ সালের আইনের ৪০ ধারায় জরুরি ভিত্তিতে অধিগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
২০১৬ সাল থেকে ড্রাগ পাচারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়, একাধিকবার রাজ্যকে জানানো হলেও ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত নেয়নি।
রাজ্যের আইনজীবী বলেন, জোর করে অধিগ্রহণে রাজ্য আপত্তি জানায়, তাই ৪০ ধারা প্রয়োগ করা হবে না; অত্যন্ত জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া এই ধারা ব্যবহারযোগ্য নয়।
রাজ্যের সময়সূচি
রাজ্য জানায়, যেসব জমির পেমেন্ট হয়ে গেছে সেগুলোর হস্তান্তর ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে শেষ হবে।
দক্ষিণ দিনাজপুর: মে
জলপাইগুড়ি: জুন
মুর্শিদাবাদ: জুন
👉 সংক্ষেপে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—যেখানে টাকা দেওয়া ও অধিগ্রহণ সম্পন্ন, সেখানে সময়মতো জমি হস্তান্তর বাধ্যতামূলক। এখন নজর ৩১ মার্চের ডেডলাইন ও ২ এপ্রিলের পরবর্তী শুনানির দিকে।





