শিলিগুড়ি-পার্বতীপুর পাইপলাইন: রেল ওয়াগনের বদলে সাশ্রয়ী ও দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক : বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার মাঝেও প্রতিবেশী দেশের পাশে দাঁড়িয়ে ভারত বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিল। ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের (IBFP) মাধ্যমে বাংলাদেশে আরও ৪৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল রপ্তানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে এই ডিজেল সরাসরি ওপার বাংলায় পৌঁছাবে।
ধাপে ধাপে রপ্তানি প্রক্রিয়া
নুমালিগড় রিফাইনারি এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই বিপুল পরিমাণ ডিজেল কয়েক দফায় সরবরাহ করা হবে:
প্রথম কিস্তি: ইতিমধ্যেই ৫,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় কিস্তি: আগামী ১৮ বা ১৯ মার্চের মধ্যে আরও ৫,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল পাঠানোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত।
চূড়ান্ত পর্যায়: বাকি ৩৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় এলসি (LC) খোলার প্রক্রিয়া চলছে। এপ্রিল মাসের মধ্যে এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে।
আরও পড়ুন-মাত্র ১,০০০ টাকার SIP-এ ১০ বছরে কত টাকা জমতে পারে? হিসেব দেখলে চমকে যাবেন
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে প্রবল অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমোজ প্রণালী দিয়ে পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় বাংলাদেশ জ্বালানি সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছিল। এই সংকট মোকাবিলায় এবং বাংলাদেশে আসন্ন ঈদ ও কৃষি সেচ মৌসুমে তেলের চাহিদা মেটাতে ভারত দ্রুত এই জ্বালানি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভারতের এই নিয়মিত সরবরাহের নিশ্চয়তা পাওয়ার পরেই বাংলাদেশে চালু হওয়া তেলের ‘রেশন’ ব্যবস্থা তুলে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের সাফল্য
২০২৩ সালের মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে এই ১৩১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনটি উদ্বোধনের মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছিল।
পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই পাইপলাইনটি রেল ওয়াগনের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী এবং দ্রুততম উপায়ে জ্বালানি পরিবহনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। প্রতি ঘণ্টায় এই পাইপলাইন দিয়ে প্রায় ১১৩ টন ডিজেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে, যা উত্তরবঙ্গের তেল পরিবহনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ভারতের ভূমিকা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল ব্যবসায়িক রপ্তানি নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ‘Neighbourhood First’ নীতিরই প্রতিফলন। বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম এবং সরবরাহের ঘাটতির মধ্যেও ভারত যেভাবে প্রতিবেশীদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, তা কূটনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।





