গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগরে ফুটল পদ্মফুল! শান্তি পেলেন শ্যামাপ্রসাদের আত্মা, ২০২৬-এর মহাবিজয়ে বাংলায় নতুন ভোরের ডাক মোদীর
বাংলার মসনদে এবার পদ্ম! মমতার হ্যাটট্রিক ভেঙে নবান্নে বিজেপি, দিল্লির মঞ্চ থেকে মোদীর হুঙ্কার— ‘বদলা নয়, এবার বদল হবে’
২০২৬-এ বাংলার রাশ বিজেপির হাতে: ৯৩ শতাংশ ভোটদানই গড়ে দিল জয়ের পথ, ভয়মুক্ত সোনার বাংলার সংকল্প প্রধানমন্ত্রীর
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক : ২০২৬ সালের ৪ মে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন হিসেবে খোদাই হয়ে গেল। ২০১১ সালে যে ঘাসফুল শিবিরের হাত ধরে বাংলায় পালাবদল ঘটেছিল, ১৫ বছর পর ২০২৬-এ সেই অধ্যায়ের অবসান ঘটল। চাণক্য নীতি আর উন্নয়নের জোয়ারে ভর করে বাংলার মসনদ ছিনিয়ে নিল বিজেপি। এদিন দিল্লির সদর দফতর থেকে বিজয়ী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে দিলেন, আজ থেকে বাংলায় এক নতুন ভোরের সূচনা হলো।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা আজ শান্তি পেল: প্রধানমন্ত্রী
এদিন জয়ের পর আবেগপ্রবণ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেল। তিনি রাষ্ট্রকে সবার আগে রেখেছিলেন এবং পশ্চিমবঙ্গের জন্য আজীবন লড়াই করেছিলেন। ২০২৬-এর ৪ মে বাংলার জনতা বিজেপিকে সেই সুযোগ দিয়েছে।” প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই জয় কেবল সংখ্যার জয় নয়, বরং এটি হিংসা, ভয় এবং তোষণের রাজনীতির যোগ্য জবাব।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর দিল্লি থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন,
“বাংলার মানুষ বিজেপির ওপর ভরসা রেখেছে। এটি উন্নয়ন ও বিশ্বাসের জয়। ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির স্বপ্ন আজ বাস্তবের পথে।”
তিনি আরও দাবি করেন, বাংলায় এবার নতুন উন্নয়নের যুগ শুরু হবে এবং “ভয়মুক্ত পরিবেশ” তৈরি করা হবে। পাশাপাশি মহিলাদের নিরাপত্তা, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
বদলা নয়, বদল হবে: বাংলায় উন্নয়নের সংকল্প
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বাংলায় বিজেপির আগামীর রোডম্যাপ স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিজেপি সরকার কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করবে না। তাঁর কথায়:
আয়ুষ্মান ভারত: নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই বাংলায় চালু হবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প।
নারী সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান: বাংলার মা-বোনেদের সুরক্ষা এবং যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই হবে প্রথম অগ্রাধিকার।
অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর পদক্ষেপ: অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।
ভয়মুক্ত পরিবেশ: বাংলা এবার হিংসার রাজনীতি থেকে মুক্তি পাবে এবং ‘বিকাশ’-এর পথে হাঁটবে।
আরও পড়ুন- ফলাফলের আগে ভোটারদের প্রণাম, ঝাড়গ্রামে রাস্তায় নেমে ধন্যবাদ বিজেপি প্রার্থী
এসআইআর (SIR) ইস্যু বনাম বিজেপির উত্থান
এবারের নির্বাচনে সবথেকে বড় চর্চার বিষয় ছিল এসআইআর (Special Intensive Revision)। অনেকেই মনে করেছিলেন, এই ইস্যুতে বিজেপি ব্যাকফুটে চলে যাবে। কিন্তু সোমবারের ফল বলছে অন্য কথা। যত বেলা গড়িয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে যে মানুষ এসআইআর-এর শোরগোলের চেয়ে বিজেপির ‘সোনার বাংলা’র সংকল্পেই বেশি ভরসা রেখেছেন। ৯৩ শতাংশ ভোটদানকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলার মহিলাদের ভোটদান এবং গণতান্ত্রিক সচেতনতা গোটা বিশ্বকে অবাক করেছে।”
তৃণমূলের হ্যাটট্রিক হিরোর পতন
টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকার পর এবার আর নিজের গদি রক্ষা করতে পারলেন না তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন, ১৫ বছর পর সেই ‘পরিবর্তনেরও পরিবর্তন’ ঘটে গেল বাংলায়। গণনাকেন্দ্রগুলি থেকে একের পর এক তৃণমূল প্রার্থীর পিছিয়ে পড়ার খবর আসতেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, বাংলার রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবার চলে গিয়েছে বিজেপির হাতে।
এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারতের লক্ষ্যে আরও এক ধাপ
কেবল বাংলা নয়, অসম, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু ও কেরলের ভোটারদেরও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলা জয়ের সঙ্গে আজ গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগরে পদ্মফুল ফুটল। এটি এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত গড়ার দিশায় এক বড় পদক্ষেপ।”



