কীভাবে ফিরল পার্টি অফিসের চাবি
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক , বালুরঘাট: ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যখন রাজনৈতিক অশান্তি বা পার্টি অফিস দখলের অভিযোগ সামনে আসছে, ঠিক তখনই এক ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী থাকল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা। রাজনৈতিক হানাহানি ও তিক্ততার ঊর্ধ্বে উঠে সৌজন্যের নজির গড়ল বালুরঘাটের বিজেপি নেতৃত্ব। জেলা বিজেপির উদ্যোগে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি ‘দখল’ হয়ে যাওয়া দলীয় কার্যালয় পুনরায় তাদের হাতেই সসম্মানে ফিরিয়ে দেওয়া হলো।
ঠিক কী ঘটেছে?
স্থানীয় সূত্রে খবর, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি পার্টি অফিস বেশ কিছু দিন ধরে বন্ধ ছিল বা অভিযোগ উঠেছিল সেটি বিরোধী শিবিরের দখলে চলে গিয়েছে। তবে মঙ্গলবার সকালে এক অন্য ছবি দেখা গেল ওই এলাকায়। বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা স্থানীয় সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের বিশেষ নির্দেশে বিজেপির টাউন সভাপতি সমীর প্রসাদ দত্ত স্থানীয় কর্মীদের নিয়ে ওই পার্টি অফিসের সামনে পৌঁছান। সেখানেই তৃণমূল প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহে অফিসের চাবি তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন- মুখ্যমন্ত্রী কে? ‘ভূমিপুত্র’ তত্ত্বে এগিয়ে শুভেন্দু অধিকারী, ইঙ্গিত দিলেন অমিত শাহ
বিজেপির বক্তব্য
এই পদক্ষেপ প্রসঙ্গে বিজেপির টাউন সভাপতি সমীর প্রসাদ দত্ত জানান, সুকান্ত মজুমদারের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে কোনও ধরণের প্রতিহিংসার রাজনীতি যেন প্রশ্রয় না পায়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব কার্যালয় পরিচালনার অধিকার আছে। সেই সৌজন্য বজায় রাখতেই এদিন তাঁরা চাবি ফিরিয়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত বা সামাজিক স্তরে সম্পর্কের অবনতি কাম্য নয় বলেই দাবি করেন তিনি।
স্বস্তিতে তৃণমূল নেতৃত্ব
বিজেপির এই ইতিবাচক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব। চাবি গ্রহণ করার সময় তৃণমূলের এক মহিলা নেত্রী বলেন, “বিজেপির এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরাও চাই না এলাকায় কোনও অশান্তি বা হিংসার পরিবেশ তৈরি হোক। প্রত্যেকেই তাঁর পছন্দের রাজনৈতিক দল করার স্বাধীন অধিকার রাখেন। এই ধরণের সৌজন্যমূলক আচরণ সুস্থ রাজনীতির পথ দেখাবে।”
শহরবাসীর প্রতিক্রিয়া
ভোট পরবর্তী উত্তেজনার আবহে বালুরঘাটের এই ঘটনাটি জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে এই ধরণের আদান-প্রদান এবং সৌজন্য প্রদর্শন ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা অনেকাংশেই কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
বর্তমানে ওই এলাকায় শান্তি বজায় রয়েছে এবং উভয় পক্ষের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিক সমাজ।





