নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃবিরামহীনভাবে বেজে চলেছে ফোন। কোনও কল আসছে বিহার থেকে, কোনওটা আবার হরিয়ানা কিংবা ঝাড়খণ্ড থেকে। পরিচিত-অপরিচিত সকলের শুভেচ্ছা গ্রহণ করছেন হাসিমুখে, একটুও বিরক্তি ছাড়া। ফোনের ফাঁকেই শান্ত স্বরে বললেন, “কারও সঙ্গে কাজ করেছি, কাউকে আবার কাজ শিখিয়েছি। সকলেই শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। রেলের পদস্থ কর্তাদেরও ফোন পাচ্ছি। অবসরের পরেও রেল আমাকে মনে রেখেছে।”
এই মানুষটি পদ্মশ্রীর জন্য মনোনীত প্রাক্তন রেলকর্মী-লেখক অশোককুমার হালদার।
মালদা শহরের ঝলঝলিয়া বিধানপল্লির বাড়িতে এখন উৎসবের আবহ। দোতলার একটি ঘরে গোল ডাইনিং টেবিল জুড়ে সাজানো অসংখ্য পুরস্কার, স্মারক, ডায়েরি ও বই। রাষ্ট্রপতির হাত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মশ্রী গ্রহণ এখনও বাকি, তবে তা যে শুধুই সময়ের অপেক্ষা—সে কথা অশোক নিজেও জানেন। এর মধ্যেই তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
SIR ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কৈফিয়ত দাবি মৌসম নূরের, না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
অবসরের পরেও থামেনি ফোন—পদ্মশ্রীর পথে রেলকর্মী-লেখক অশোক হালদার
ফোনটা থামছেই না…….
একটা কল বিহার থেকে, পরেরটা হরিয়ানা, আবার ঝাড়খণ্ড থেকেও ফোন। পরিচিত-অপরিচিত সকলেই শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। হাসিমুখে একের পর এক ফোন ধরছেন তিনি। বিরক্তি নেই, ক্লান্তিও নেই।
বললেন,
“কারও সঙ্গে কাজ করেছি, কাউকে আবার কাজ শিখিয়েছি। রেলের পদস্থ কর্তাদেরও ফোন পাচ্ছি। অবসরের পরেও রেল আমাকে মনে রেখেছে।” এই মানুষটি হলেন অশোককুমার হালদার—পদ্মশ্রীর জন্য মনোনীত প্রাক্তন রেলকর্মী ও সাহিত্যিক।
মালদার বাড়িতে এখন উৎসবের আবহ
মালদা শহরের ঝলঝলিয়া বিধানপল্লি। দোতলার একটি ঘরে গোল ডাইনিং টেবিল। টেবিল জুড়ে সাজানো ছোট-বড় অসংখ্য পুরস্কার, স্মারক, ডায়েরি আর বই।
রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পদ্মশ্রী গ্রহণ এখনও বাকি, কিন্তু রেল ইতিমধ্যেই সংবর্ধনার প্রস্তুতি শুরু করেছে। তাঁর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন তথ্য।
বাড়িতে এখন প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে। বদলে যাওয়া এই পরিবেশে একটুও অস্থির নন অশোক। উল্টে বলছেন,
“এই সম্মান আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল। লেখার অনুপ্রেরণা পাচ্ছি।”
আরও পড়ুন- এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে মালদার শিক্ষক কাঞ্চনকুমারের নজির !
পাহাড়, বন আর মানুষের গল্পই তাঁর কলম
রেলের গার্ড হিসেবে কাজ করতে গিয়ে বাংলা, বিহার, ঝাড়খণ্ডের নানা প্রান্তে ঘুরেছেন তিনি। দেখেছেন সবুজ পাহাড়, বন, মহুয়া ফুলের গন্ধে ভরে ওঠা প্রকৃতি। আবার দেখেছেন পাহাড় ধ্বংস, বন উজাড়ের নির্মম ছবি।
মালগাড়ি থেকে প্যাসেঞ্জার ট্রেন—দুই জগতেই তিনি কাছ থেকে দেখেছেন সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম। প্রকৃতি আর মানুষের সেই গল্পই ধরা পড়েছে তাঁর লেখায়।
অবসর নিলেও কলম রাখেননি
চাকরি শেষ, কিন্তু লেখালেখি নয়।
এখনও রাত ১টা পর্যন্ত জেগে থাকেন—শুধু লেখার জন্য। অশোকের কথায়, “চাকরি জীবন আমাকে লিখতে শিখিয়েছে। প্রকৃতি আমাকে বুঝিয়েছে—তুমি থাকবে না, কিন্তু তোমার কর্মফল থাকবে।”
পদ্মশ্রী নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল
কলমের জোরেই আগেই পেয়েছেন আসাম রত্ন, প্যান্থার অ্যাওয়ার্ড, ভারতীয় দলিত সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার।
তবে পদ্মশ্রী সম্মান তাঁর জীবনে এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার যোগ্য সম্মান দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও রেলকে ধন্যবাদ জানাই।”
১৩টি বই, আর এখন শুধুই কবিতা
এখনও পর্যন্ত লিখেছেন ১৩টি বই—
৮টি ইংরেজিতে, ৫টি বাংলায়।
কবিতা, ছোটগল্প—সবই আছে।
তবে এখন কলম ধরলেই কবিতা চলে আসে।
হাসতে হাসতে বলেন,
“এখন লিখতে বসলেই চার লাইনের কবিতা বেরিয়ে পড়ে।”
জীবনটাই যে এখন ছন্দে।



