দিদির কাছে ফেরার ইচ্ছার কথা কী বলেছিলেন আশা ভোঁসলে
দিদি লতা মঙ্গেশকরের কাছে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা— আশা ভোঁসলের এই আবেগঘন মন্তব্য ফের ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভক্তদের চোখে জল এনে দিয়েছে সেই ভিডিও।
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক : ভারতীয় সংগীতের আকাশ থেকে খসে পড়ল আরও একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। কথা ছিল ৯২ বছর পূর্ণ করে শতায়ু হবেন, কিন্তু সুরের জাদুকরী মায়া কাটিয়ে চিরনিদ্রার দেশে পাড়ি দিলেন ভারতের চিরসবুজ গায়িকা আশা ভোঁসলে। রবিবার সকালে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর এই প্রয়াণের সাথে সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে ভাইরাল হয়েছে তাঁরই দেওয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার, যা আজ কোটি কোটি ভক্তের চোখে জল এনে দিয়েছে।
মৃত্যুর আগে চেয়েছিলেন দিদির সান্নিধ্য
কিছুদিন আগেই এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের এক গোপন ও পরম ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। তিনি বলেছিলেন, “আমার শেষ ইচ্ছা হলো, মৃত্যুর পর যেন আমি আমার দিদির (লতা মঙ্গেশকর) কাছেই ফিরে যেতে পারি। যেখানেই তিনি থাকুন, আমি যেন তাঁর সঙ্গেই আবার দেখা করতে পারি।” ২০২২ সালে লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণের পর থেকেই আশা তাই এক গভীর একাকীত্বে ভুগছিলেন। আজ যেন সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। সংগীতের দুই কিংবদন্তি নক্ষত্র আবার মিলিত হলেন সুরের অন্য কোনো এক ভুবনে।
আরও পড়ুন- ১৩ বছর, এক পুরনো সাইকেল আর এক বুক বিরহ: হারানো স্ত্রীর খোঁজে অখিল বিশ্বাসের অন্তহীন যাত্রা
এক বর্ণময় কেরিয়ারের রাজকীয় পরিসমাপ্তি
১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাংলিতে জন্ম আশার। বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকরের হাত ধরেই তাঁর সংগীতের হাতেখড়ি। দিদি লতা মঙ্গেশকরের পথ অনুসরণ করে মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি পা রেখেছিলেন প্লেব্যাকের দুনিয়ায়। আট দশকের দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি গেয়েছেন ১২ হাজারেরও বেশি গান। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও তাঁর নাম রয়েছে সবচেয়ে বেশি গান রেকর্ড করার জন্য।
আশা ভোঁসলে কেবল গায়িকা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিভা। পপ, গজল, ক্লাসিক্যাল থেকে শুরু করে ক্যাবারে—সংগীতের প্রতিটি ধারায় তিনি নিজের ছাপ রেখে গেছেন। ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, ‘দম মারো দম’ থেকে শুরু করে বহু রোমান্টিক এবং বিরহের গানে তাঁর কণ্ঠ আজও তরুণ প্রজন্মের কাছে সমান জনপ্রিয়। ও পি নায়ার থেকে শুরু করে আর ডি বর্মন—সংগীতের স্বর্ণযুগের প্রতিটি অধ্যায় তাঁর কণ্ঠে সমৃদ্ধ হয়েছে।
মঞ্চে আজও খুঁজে ফিরতেন লতা জি-কে
লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণের পর প্রতিটি লাইভ কনসার্টে আশা ভোঁসলেকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হতে দেখা যেত। তিনি বলতেন, “আমি যখন গান গাই, মনে হয় দিদি ঠিক পাশেই কোথাও দাঁড়িয়ে আছেন এবং আমার ভুলগুলো শুধরে দিচ্ছেন।” আজ সেই ছায়ার মতো পাশে থাকা দিদির কাছেই চিরদিনের মতো ফিরে গেলেন তিনি। ৯২ বছর বয়সে তাঁর এই বিদায়ে ভারতীয় সংগীতের এক স্বর্ণযুগের চূড়ান্ত যবনিকা পতন ঘটল।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামীকাল সোমবার বিকেল ৪টের সময় মুম্বইয়ের শিবাজী পার্কে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে বিনোদন জগতের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে জানিয়েছেন, ভারতের রত্নভাণ্ডার থেকে আজ আরও একটি অমূল্য হীরা খসে পড়ল।
আশা তাই-এর প্রয়াণে লতা মঙ্গেশকরের পর মঙ্গেশকর পরিবারের শেষ প্রদীপটিও যেন নিভে গেল। কিন্তু তাঁর কালজয়ী গানগুলো আগামী কয়েক শতাব্দী ধরে বিশ্বজুড়ে তাঁর উপস্থিতি জানান দেবে।



