আসানসোল ডিভিশনে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা, সিমেন্টবোঝাই মালগাড়ি লাইনচ্যুত
নদীতে পড়ল একাধিক বগি, বহু ট্রেন বাতিল ও রুট পরিবর্তন
আসানসোল রেল ডিভিশনের অন্তর্গত গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে ভয়াবহ দুর্ঘটনার জেরে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে রেল পরিষেবায়। শনিবার গভীর রাতে বিহারের শিমুলতলা স্টেশনের কাছে তেলিয়াবাজার এলাকায় সিমেন্টবোঝাই একটি মালগাড়ি আচমকাই লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় মালগাড়ির মোট ১৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি বগি পাশের বরুয়া নদীতে পড়ে যায়, আর কিছু বগি সংলগ্ন লাইনের উপর উল্টে পড়ে।
২০২৬ কষ্টের না সৌভাগ্যের? গজকেশরী যোগ ও বৃহস্পতির গোচরে কাদের হবে লাভ
রেল সূত্রে জানা গেছে, মালগাড়িটি জসিডিহ থেকে ঝাঝার দিকে যাচ্ছিল। তেলিয়াবাজার হল্ট স্টেশনের কাছে ৬৭৬ নম্বর সেতুর উপর দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার অভিঘাতে রেললাইনের একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় ওই মালগাড়ির ঠিক পিছনেই ছিল কলকাতা–গোরখপুর পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেস। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত ট্রেনটিকে মাঝপথে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। রেল কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার জেরে হাওড়া, শিয়ালদহ, পাটনা, দিল্লি ও মুম্বইমুখী একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বহু দূরপাল্লার ও লোকাল ট্রেনের যাত্রাপথ সাময়িকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। বন্দে ভারত, রাজধানী, সুপারফাস্ট ও ইন্টারসিটি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনকে বিকল্প রুটে ঘুরিয়ে চালানো হচ্ছে। ফলে যাত্রীদের নির্ধারিত সময়সূচিতে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে।
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়েছে। নদীতে পড়ে যাওয়া বগিগুলি তুলতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের দ্রুত সংস্কারের কাজ চলছে, যাতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল শুরু করা যায়। রেল প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতির তদারকি করছেন।
রেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, এই দুর্ঘটনায় কোনও যাত্রী বা রেলকর্মীর হতাহতের খবর নেই। যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে রেল প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তা বজায় রাখাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। যাত্রীদের যাত্রার আগে NTES বা IRCTC অ্যাপ, অথবা নিকটবর্তী স্টেশন থেকে ট্রেনের সর্বশেষ অবস্থান যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।





