জানেন কি মহালয়ার সাথে দুর্গা পুজোর কোন সম্পর্ক নেই ? আসলে এই দিনটি শাস্ত্র মতে খুবই কষ্টের দিন - Newsbazar24
ধর্ম কথা

জানেন কি মহালয়ার সাথে দুর্গা পুজোর কোন সম্পর্ক নেই ? আসলে এই দিনটি শাস্ত্র মতে খুবই কষ্টের দিন

জানেন কি মহালয়ার সাথে দুর্গা পুজোর কোন সম্পর্ক নেই ? আসলে এই দিনটি শাস্ত্র মতে খুবই কষ্টের দিন

শ্যামল ভাদুরি ,  news bazar24  ঃ মহালয়া, দুর্গা পুজো আমাদের মন এক আবেকভরা সুতোয় গাঁথা থাকলেও বাস্তবে কি মহালয়া আর দুর্গা পুজোর মধ্যে কি কোন তিথি গত সম্পর্ক আছে ? যুগ যুগ ধরেই কি মহালয়ার নিয়ম চলে আসছে ? এই বিষয়ে নানা মানুষের নানা মত আছে আর সেটা থাকতেই পারে।  তাইতো অনেকেই  বলে থাকেন  এই দিনের পর পরবর্তী ষষ্ঠ দিনেই দুগ্গাপুজো শুরু। মা দুর্গা ছেলে পুলে নিয়ে বাবার বাড়ি আসতে যাত্রা শুরু করেন। তাই একটা আনন্দের সূচনা প্রতীক্ষার নিবৃত্তি এই দিনটাতেই মনে করে সবাই।

আবার অনেকেই বলেন  বেতারেমহিষাসুরমর্দিনীএই দিনই বাজে। মানে দুর্গা পূজা শুরুর গান বাজে। জোড় কদমে প্যান্ডেল তৈরির কাজ শুর হয় নতুন ভাবে    তাহলে কেন মহালয়ার সাথে দূর্গাপূজার আবেক জড়াবে না ?

আবার কেউ বা যুক্তি দেবেন মহালয়া মানেই তো দেবীর আগমনের শুরু। দুগগা প্রতিমার চোখ আঁকার দিন। মানে  পূজো শুরু। মা দুর্গার মুখের ছবি দিয়েশুভ মহালয়ালিখে ফেসবুকের দেওয়াল ভরে দেওয়া।  তবে কি সত্যি কথা জানেন ? ১৯৩২ সালের আগে

মহালয়ার সঙ্গে দুর্গাপূজোর কোন সম্পর্ক ছিলো না এক কথায় শাস্ত্র মতে  আদৌ কোনো সম্পর্ক নেই।শুভ মহালয়াবলতে বাংলা অভিধানে কোন ধর্মীয় অর্থ নেই। তবে এই দিন অমবস্যা থাকে।আস্বিন মাসের অমবস্যা  আর এই দিনটা বরং ভারি দুঃখের দিন।প্রিয়জনদের জন্য মন খারাপের দিন। কষ্টের দিন।

১৯৩২-১৯৩৪ দুর্গা পুজার দিন আগে পরে রেডিওতেমহিষাসুরমর্দিনীনামের একটি অনুষ্ঠান পরিবেশন করাই শুধু হয়েছিল। ভোর বেলা বিরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র রেডিওতে লাইভ চণ্ডী পাঠ করতেন,বিভিন্ন গানের সাথে অনুষ্ঠানটি মানুষ এতটাই গ্রহণ করেছিল যে মানুষের মনেমহিষাসুরমর্দিনীমহালয়ার প্রাতেই শোনার নিয়মের মত হয়ে গেছে।এরপর কলকাতা দূরদর্শন  পরবর্তীকালে টেলিভিশনে  নৃত্যগীত সহযোগে ওই অনুষ্ঠানের নকল করে দেবী দূর্গার নানান কাহিনীমূলক অনুষ্ঠান দেখানো শুরকরে।এরপর বিভিন্ন চ্যনেলও একই পথে হাটতে শুরুকরে। কিন্তু বাস্তবেমহালয়াতিথির সাথে দুর্গা পুজোর কোনোই সম্পর্ক নেই।

তবে এই দিনটির অন্যকোন মহত্ব ?

মহালয়া কথাটি এসেছেমহত্আলয়থেকে। হিন্দু শাস্ত্র মতে  পিতৃপুরুষেরা এই সময়ে পরলোক থেকে ইহলোকে তাদের গৃহ বা আলয়ে জল খাদ্যের আশা করে পরিবার সদস্যদের  কাছে আসেন।

ফলে পিতৃপুরুষদের জল খাদ্য(পিণ্ড) প্রদান করেতৃপ্তকরা হয় বলেই মহালয়া একটি পূণ্য তিথি এবং এই দিনটি প্রিয়জনদের জন্য কষ্টে থাকার দিন।

পৌরাণিক মতে অর্জুনের তীরে মৃত্যুর পর কর্ণের আত্মা পরলোকে গমন করার পর তাঁকে খাদ্য হিসেবে স্বর্ণ রত্ন দেওয়া হয়েছিলো। কর্ণ এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তাঁকে বলা হয়, তিনি সারা জীবন স্বর্ণ রত্ন দান করেছেন, কিন্তু প্রয়াত পিতৃগণের উদ্দেশ্যে কখনও খাদ্য বা জল  দান করেননি। তাই স্বর্গে খাদ্য হিসেবে তাঁকে সোনাই দেওয়া হয়েছে। দুঃখিত কর্ণ জানান তাঁর পিতৃপুরুষ কারা সেটাই তো তিনি মৃত্যুর মাত্র একদিন আগেই জানতে পেরেছিলেন। তাঁর কিই বা করার আছে??

যমরাজ তখন  কর্ণের কস্তটা উপলব্ধি করেন এবং কর্ণকে এক পক্ষকালের জন্য মর্ত্যে ফিরে পিতৃলোকের উদ্দেশ্যে অন্ন জল দেওয়ার সুযোগ করে দেন। এই পক্ষই পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত হয়। শাস্ত্র বলছে প্রতি বছর এই দিনটি আত্মরা জল খাদ্যের জন্য ইহলোকে আসেন  কর্ণ যেহেতু এই দিনেই এই মহৎ কাজটি করেছিলেন। হিন্দুরা এই পুণ্য কর্মটিকে তর্পণ নামে অভিহিত করেন যুগ যুগ ধরে প্রথাটি সকলের বংশ পরম্পরায় চলে আসছে। আর পূর্ব পুরুষকে পিন্ড (খাদ্য) জল দেবার মত পুণ্য কর্মের দিন এই দিনটিকেই ধার্য্য করা হয়। তাই এই দিনটিকে কষ্টের দিন বলেই মানা উচিৎ সবার মঙ্গল কামনা করা উচিৎ।  

কৃতজ্ঞতা - দেবারতি মিত্র

 

 মহালয়া রেডিওতে শোনার প্রচলন কেমন করে শুরু হলো ? সে সময় কে কে ছিলেন বীরেন্দ্র কৃষ্ণের সাথে ?

 

NewsDesk - 2

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news